তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ওয়াহিদুল হকের গোপন বৈঠকের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নথি আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এখন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনে যেটা বলা আছে, তাই হবে। গতকাল আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তুরিন আফরোজের বিষয়ে আনীত অভিযোগ সংক্রান্ত কোনও তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে কিনা, বিষয় তা নয়। তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে বুধবার গোপন বৈঠকের বিষয় জানিয়ে আইন মন্ত্রনালয়ে পাঠায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়।
পাঠানো নথিতে দুটি চিঠি ও আসামির সঙ্গে তুরিন আফরোজের কথোপকথনের রেকর্ড করা বক্তব্য সংযুক্ত রয়েছে হয়েছে। এখন আইন মন্ত্রনালয় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, গত ৭ মে চিফ প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে সংশ্লিষ্ট ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। তারপর গত ৮ মে তাকে প্রসিকিউশনের সব দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের দুটি চিঠি এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তার (তুরিন আফরোজ) সঙ্গে আসামির কথোপকথনের (গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের) সিডিসহ যাবতীয় নথি গতকাল বুধবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা যদি সত্যি হয় তবে মন্ত্রণালয় অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, আমিতো আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাই না, বা তাদের মামলাও পরিচালনা করি না। কাজেই এ বিষয়ে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।

অন্যদিকে তুরিন আফরোজ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেছেন, প্রসিকিউটরের একজন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এখতিয়ার রয়েছে। সুতরাং যে কোনও মামলাতে তদন্ত করার এখতিয়ার আমার আছে। আর তদন্ত করতে গেলে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হয়। আমি তদন্তের স্বার্থে যে কোনও প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করতে পারি। আমি যা কিছু করেছি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে অবহিত আছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফেসবুকের স্ট্যাটাসকে তার অফিসিয়াল বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত ৮ মে ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রসিকিউটর ব্যরিস্টার তুরিন আফরোজকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সকল মামলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে তার কাছে থাকা ট্রাইব্যুনালের সকল মামলার ডকুমেন্টও জমা দিতে বলা হয়। আগেরদিন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বলকে মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এনএসআইএয়র সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে। গত বছরের ১৯ নভেম্বর গুলশানের অলিভ রেস্টুরেন্টে তুরিন আফরোজ, তার সহযোগী ফারাবী, আসামি ওয়াহিদুল হক, তার স্ত্রী ও অন্য একজন মুরুব্বি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পৌনে তিন ঘণ্টার রেকর্ড ওয়াহিদুলের মোবাইলে ধারণ করা হয়।

এছাড়া আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ ও পৌনে তিন ঘণ্টার রেকর্ড প্রসিকিউশন কার্যালয়ে প্রাপ্তির আলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার ভাবমূর্তি রক্ষা ও স্বচ্ছতার জন্য তুরিন আফরোজকে সকল মামলা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।

জানা গেছে, ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতারের আগে গত ১১ নভেম্বর ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে। এর এক সপ্তাহ পর তিনি ওয়াহিদুল হককে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের কথা জানান।

তাকে যে কোনো দিন আটক করা হতে পারে বলেও তিনি কথোপকথনকালে জানান। প্রথমে নির্ধারণ হয় ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ওয়াহিদুল হকের গুলশানের বাসায় তাদের সাক্ষাৎ হবে। এ সময় তুরিন আফরোজ জানান, সহকারী ফারাবী বিন জহির অনিন্দকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বোরকা পরে তারা দুজন ওয়াহিদুল হকের বাসায় যাবেন।

পরবর্তী সময়ে সাক্ষাতের স্থান পরিবর্তন হয়। তারা গুলশানে অলিভ গার্ডেন নামের একটি রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা প্রায় তিন ঘণ্টা মামলার নথিপত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

Comments

comments