শরীরে আঘাতের চিহ্ন, সুরতহালে সব স্বাভাবিক!

রাজধানীতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া আশরাফ আলী ওরফে আসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে সেখানে সব কিছু স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার এসআই হরিচাঁদ হাজারা সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়- নিহত আসলামের নাক, কান, গলা ও ঘাড় স্বাভাবিক। চোখ বন্ধ, মুখ বন্ধ। বুক, পেট ও পিঠ স্বাভাবিক। উভয় পা স্বাভাবিক। তবে রিপোর্টের এক পাশে ছোট করে ‘দুই পায়ে হালকা কালচে দাগ’ দেখা যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে দেখা যায়, নিহত আসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার পিঠে এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। দুই পায়ে আঘাতের কারণে কালো বর্ণ ধারণ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

নিহতের বড় ভাই আবদুর রশিদ সোমবার রাতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে যুগান্তরকে বলেন, সব কথা বলা সম্ভব নয়। আমরা কী বলব। আপনারা যা দেখছেন আমরাও একই অবস্থা দেখছি। বলার কিছু নেই।

এদিকে সুরতহাল রিপোর্টের পর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ময়নাতদন্ত শুরু হয়। শেষ হয় ৭টায়।

ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ভিসেরার জন্য লাশের ফসুফুস, হার্ট, ব্লাড, প্যাথলজিতে পাঠানো হয়েছে। প্যাথোলজি রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানানো সম্ভব হবে। তবে আশরাফ আলীর পায়ে কালো দাগ থাকার কথা জানান তিনি।

শাহ আলী থানা পুলিশ জানায়, ২৫ এপ্রিল রাজধানীর মিরপুরে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে নিয়ামুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরদিন তার ভাই নাজমুল হোসেন একই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

রোববার তিনি তার ভাইয়ের মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবির কথা উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নিহত আসলামকে গাজীপুর থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মৃতু হয়।

এ প্রসঙ্গে এসআই অনুজ কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, শাহআলী এলাকা থেকে নিয়ামুল নিখোঁজ হয়েছিল কি না বিষয়টি নিশ্চিত হতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) উদ্ধার করা হয়। সিডিআরে সেটি নিশ্চিত হাওয়া যায়। এরপর এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশের পাশাপাশি ডিবিও তদন্ত করছে।

Comments

comments