আমি গুরুতর অসুস্থ : খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া
‘অত্যন্ত গুরুতরভাবে অসুস্থ’ বলে জানিয়েছেন তাঁর অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আজ বিকেলে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে পাঁচ আইনজীবী পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করেন। পরে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তাঁরা বের হয়ে জেলগেইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার সাথে অসু্স্থতা ও মামলার বিষয়ে তাদের কথা হয়েছে। আলাপে খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ এটা কোর্টকে জানাবো’। এছাড়া জেলে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থাকার কারণে ‘দিন দিন তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে’ বলেও তিনি তাদের জানিয়েছেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট- এটা সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থাপনের জন্য খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হাইকোর্ট বিস্তারিত শুনানি করে ম্যাডামকে জামিন দিয়েছেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এবং আমার ৫০ বছরের ক্রিমিনাল প্র্যাকটিসে পাঁচ বছর সাজার পর হাইকোর্ট বিভাগ যখন জামিন দেয় উচ্চ আদালত সেই জামিন কখনো স্থগিত করেননি। এখানে শুধু স্থগিতই করেননি, এখানে তারা পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য দীর্ঘ সময় দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা আশা করি, বিশ্বাস করি, দেশে যদি আইনের শাসন বিন্দুমাত্র থাকে তাহলে অবশ্যই ৮ তারিখে ম্যাডাম জামিন পাবেন।

অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা ম্যাডামকে দেখতে এসেছিলাম আইনজীবী হিসেবে। যেহেতু আমরা মামলা করি সেই কারণে। ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। তার যে বাম হাত তিনি নাড়াতে পারেন না, তা শক্ত হয়ে গেছে এবং ঘাড়েও তার সমস্যা আছে। অর্থাৎ এইরকম একটি স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বন্দি থাকা অবস্থায় যেরকম অবস্থা হয় তাই ম্যাডামের হয়েছে। ম্যাডামের বয়সও চিন্তা করতে হবে তার বয়স ৭৩ বছরের উপরে।

তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি ম্যাডামের যে চিকিৎসা দরকার তা জেলখানায় সম্ভব নয়। ম্যাডামের চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে হওয়া দরকার। আপনারা দেখেছেন জেল কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লেখেছে তার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না দেশের তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তিনি আজকে জেলখানায় আছেন। কী মামলায় আছেন তা আপনারা জানেন-এটা একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলায় তিনি আজকে বিনা চিকিৎসায় জেলখানায় কষ্ট পাচ্ছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত। সেদিন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি আছেন। তার মুক্তির জন্য আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করে আসছে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন।

Comments

comments