ভুল নকশায় ২০ বছরের ঋণের বোঝা

মোট ৪২টি পিলার এরমধ্যে ২২টি পিলারেরই পাইলিংয়ে সমস্যা ধরা পড়ে

সেতুটিতে ৪২টি পিলার থাকবে কিন্তু এরমধ্যে ২২টি পিলারেরই পাইলিংয়ের ক্ষেত্রে তলদেশের মাটিতে সমস্যা ধরা পড়ে।

বহুল প্রতীক্ষিত নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ভুল নকশা প্রণয়নে গৃহীত ঋণের বোঝা টানতে হবে ২০ বছর।

সেতুটির নকশা প্রণয়নকালে সব পিলারের তলদেশের মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে সেতুতে ৪২টি পিলার থাকার কথা থাকলেও এরমধ্যে ২২টি পিলারের পাইলিংয়ের ক্ষেত্রে তলদেশের মাটিতে সমস্যা ধরা পড়ে। পরে পিলারগুলোর পাইলের নকশা সংশোধন করতে হয়েছে। যদিও অনেক আগেই সেতুটির নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, ২০০৮ সালের ১০ জুলাই মাসে পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে চুক্তি সই হয়। এর আওতায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঋণ দেয় সংস্থাটি। এ ঋণে সুদের হার ছয় শতাংশ। আর এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে, যার গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর। এতে সেতুর নকশা প্রণয়নে ব্যয় বেড়ে যায়।

২০১০ সালের ৩ মে এডিবির সঙ্গে আরও ৬২ লাখ ৭৪ হাজার এসডিআর বা প্রায় ৭০ কোটি টাকার পৃথক আরেকটি ঋণ চুক্তি সই হয়। এ ঋণেও সুদহার ছিল ছয় শতাংশ। যা একই পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে।

প্রথম চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বছরে দুবার তিন লাখ ৭২ হাজার ৬৩৩ এসডিআর বা সাত কোটি ৮০ লাখ টাকা হারে আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে বছরে পরিশোধ করতে হয় ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

আর দ্বিতীয় ঋণ চুক্তি অনুযায়ী, দুই লাখ ৯ হাজার ১৩৩ এসডিআর বা চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা হারে আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে বছরে পরিশোধ করতে হয় আট কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এদিকে দুই ঋণের আওতায় বছরে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা। তবে বর্তমানে এসডিআরের বিনিময় হার বেড়ে গেছে। এতে নকশা প্রণয়ন ঋণ বাবদ বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। সেতু বিভাগের আয়ের ঘাটতি থাকায় অর্থ মন্ত্রণালয় এ ঋণ পরিশোধ করছে। প্রথম ঋণের কিস্তি ২০২৮ সালের ৩০ জুন ও দ্বিতীয় ঋণের কিস্তি ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধ করতে হবে

সেতু বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতুর ডিজাইন প্রকল্পের জন্য এডিবির ঋণের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি সই হয়। ২০১৩ সাল থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে মূল সেতু তখনও নির্মাণ শুরু হয়নি। আর সেতু বিভাগের আয়ের ঘাটতি রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডিকে নকশা প্রণয়নে গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধে অনুরোধ করা হয়। সে অনুযায়ী তারা ঋণটি পরিশোধ শুরু করে, যা এখনও চলমান রয়েছে।

সূত্র: শেয়ারবিজ

Comments

comments