ফিলিস্তিনিদের নির্মূলে জীবননাশক গুলি ও বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনিদের মুক্তি আন্দোলন ঠেকাতে এবার বেশ কিছু নতুন ধরনের বিষাক্ত অস্ত্র ও গ্যাস ব্যবহার করছে দখলদার ইসরাইলী বাহিনী। এবার তারা বাটারফ্লাই বুলেট নামক এক ধরনের বুলেট ব্যবহার করেছে ফিলিস্তিনিদের উপর। এই বুলেটগুলো শরীরের কোথাও বিদ্ধ হলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশী রক্তপাত হয়। বুলেটটি শরীরের ভেতরে ঢুকেই শিরা, ধমনী এবং হাড়গুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে কোন কারনে বুলেটবিদ্ধ রোগী বেঁচে গেলেও শরীরের যেই স্থানে বুলেটটি লাগে সেটাকে কেটে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা।

শরীরের ভেতরে গিয়ে এভাবেই বিস্ফোরিত হয় বাটারফ্লাই বুলেট

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দাবী করছেন এরকম স্বাস্থ্যহানিকর ও জীবনঝুঁকি বৃদ্ধিকারক বুলেট পৃথিবীর কোথাও অাগে ব্যবহৃত হয়নি। কেননা বুলেটগুলো শরীরের ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং শরীরের টিস্যুগুলোকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়।

১৮৯৯ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী শরীরের ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয় এমন ধরনের বুলেটগুলো ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হলেও বেআইনী এই কাজটি দখলদার ইসরাইল বেপরোয়াভাবে করেই যাচ্ছে।

অনেকেই বলছেন গাজার দখলকৃত এলাকাগুলোকে ইসরাইল তাদের পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। যখনই তারা নতুন কোন অস্ত্র তৈরী করে সেটা কতটা কার্যকর, তা যাচাই করার জন্য তারা গাজা উপত্যকার নিরীহ লোকগুলোকেই বেছে নেয়।

শুধু এই বাটারফ্লাই বুলেট নয়, এবারের দমন অভিযানে ইসরাইলীরা হলুদ-সবুজ মিশ্রনের একটি নাম না জানা বিষাক্ত গ্যাসও প্রয়োগ করেছে। এই গ্যাসটি কারও শরীরের ভেতরে যাওয়া মাত্রই তার খিচুনি শুরু হয়, হাত পা অসাড় হয়ে আসে ফলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে বাধ্য হয়। প্রথমদিকে এই গ্যাসকে সাধারণ টিয়ার গ্যাস মনে করা হলেও পরবর্তীতে দেখা যায়, আক্রান্ত মানুষটি ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট ও মাইগ্রেনের ব্যাথায় আক্রান্ত হয় এবং তার হার্টবিট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের চেয়েও ছোট। তথাপি ইসরাইলই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশ।

Comments

comments