৭০ বছরের দখলদারিত্বের শিকার ফিলিস্তিন

আলী আহমাদ মাবরুর

গেল মার্চ মাসের ৩০ তারিখ থেকে শত বঞ্চনা, নিপীড়ন আর জুলুমের শিকার ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষগুলো ৬ সপ্তাহের প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করেছে। মূলত ৭০ বছর আগে এই দিনে ইহুদী অপশক্তি ফিলিস্তিনীদেরকে তাদের আদিভূমি থেকে উচ্ছেদ ও বহিষ্কার শুরু করে। সেই অন্যায় দখলদারিত্বের দিনটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচীটি পালন করছে দেশটির মজলুম নারী পুরুষ সকলেই। এই প্রতিরোধ কর্মসূচীতে গাজা ও পশ্চিম তীরের মানুষগুলো নিজ বাড়ী থেকে বেরিয়ে এসেছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তু যারা নিজেদের বাড়ী ঘরে থাকতে না পেরে বছরের পর বছর কাঁটাতারের বেড়া আর উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইসরাইলের সীমানা জুড়ে বিশাল উম্মুক্ত স্থানে ফিলিস্তিনীরা এই বিক্ষোভ প্রদশর্ন করছে।

কর্মসূচীটির নাম দেয়া হয়েছে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’। এই প্রতিবাদ কর্মসূচীর মাধ্যমে ফিলিস্তিনীরা মূলত তাদের মূল ভূমিকে ফেরত চাইছে যা আজ থেকে ৭০ বছর আগে ইসরাইলীরা অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নিয়েছে।

‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচীর দৃশ্য

আগে থেকেই ধারণা ছিল যে ইসরাইলীরা সহিংসতার মাধ্যমেই এই কর্মসূচী মোকাবেলা করবে। তবে তারা যে এতটা সহিংস ও বর্বর হয়ে উঠবে তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। একেবারে প্রথমদিন ফিলিস্তিনীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচী শুরু করার সাথে সাথেই ইসরাইলীরা বিক্ষোভকারীদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ড্রোন দিয়ে তাদের উপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ নিরীহ ফিলিস্তিনীদেরকে হত্যা করার জন্য অসংখ্য স্নাইপারও নিয়োগ করে। স্নাইপার হলো মুখোশধারী কিছু আঁততায়ী যারা আড়ালে থেকে টার্গেট করা ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে।

প্রথম ১৫ দিনের বিক্ষোভে এই পর্যন্ত ৪২ জন ফিলিস্তিনী নাগরিক শাহাদাতবরণ করেছেন, আহত হয়েছেন আরও সহস্রাধিক মানুষ। নিজেদের সীমানাকে নিরাপদ রাখার জন্য ইসরাইলী সীমানার বাইরে ৩৫০ মিটার এলাকাতে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। অথচ বাস্তবতা হলো এই ৩৫০ মিটারের বাইরে থাকা ফিলিস্তিনীদেরকেও তারা ছাড়ছে না। এমনকি দিন দুয়েক আগে একজন ফিলিস্তিনী কৃষকের উপর দিয়ে ট্যাংক চালিয়ে দিয়ে তাকে বর্বরভাবে পিষে হত্যা করেছে ইসরাইলীরা। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকেরা বলছেন যে, ইসরাইলী সেনারা গুলি করে পাখির মত করে মানুষ হত্যা করছে। আর যেহেতু বিক্ষোভটা হচ্ছে সীমান্তবর্তী খোলা জায়গায়, তাই এই গুলি ও হামলা থেকে ফিলিস্তিনীরা সহজে বাঁচতেও পারছে না। তারা লুকোনোর মত জায়গাও খুঁজে পাচ্ছে না, ফলে অনেকটা অবধারিতভাবেই তাদেরকে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে।

এই বিক্ষোভকারীরা কখনোই ইসরাইলী সীমানাকে অতিক্রম করতে চায়নি, কখনো হুমকিও দেয়নি। মানুষগুলো একেবারেই নিরস্ত্র। তারা গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে কিংবা পাথর ছুঁড়েই তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আর বিক্ষোভাকারীদের অবস্থান সীমান্ত বেড়া থেকে এতটাই দূরে যে তাদের ছোঁড়া এইসব পাথর ইসরাইলী সীমানার ধারে কাছেও যায় না। ফিলিস্তিনীরা এভাবে অসহায় হয়ে প্রতিবাদ করছে শুধু একটি বার্তা দেয়ার জন্যই আর তা হলো ৭০ বছরের অন্যায় আগ্রাসনের পরেও তারা এখনো অবধি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে রাজী নয়। তারা কখনোই আগ্রাসনকারীদের কাছে মাথা নত করবে না এবং কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে অন্যায়ভাবে কারও কাছে ছেড়েও দেবে না।

ইসরাইল যদিও দাবী করেছে যে বিক্ষোভকারীদের অনেকেই সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে তবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে ইসরাইলের এই দাবীকে অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ইসরাইলের চলমান বর্বরতা এবং নিরীহ ফিলিস্তিনীদেরকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও ইসরাইল তাতে কর্ণপাত করছে না। ইসরাইলের এই পৈশাচিকতাগুলোকে তদন্ত করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব অবশ্য উঠেছিল তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়ায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন পৃষ্ঠপোষকতা ইসরাইলকে আরো বেপরোয়া করে দিয়েছে। ইসরাইলী প্রশাসন দাবী করছে তাদের সেনারা তাই করছে যা করা উচিত। ইসরাইলের সেনা প্রশাসনের কর্মকর্তা এভিগেদর লিবারম্যান এক টুইট বার্তায় আরো জানিয়েছেন “সৈন্যরা যা করছে তা বুঝে শুনেই করছে। কোন কিছুই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। ইসরাইলী সেনারা খুব ভাল করেই জানে যে বুলেট কোথায় খরচ করতে হবে।” লিবারম্যানের এই ধরনের দম্ভোক্তি ইংগিত করে ইসরাইলের সেনাদের চলমান গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধ ইসরাইলী সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদেই সংঘটিত হচ্ছে।

৭০ বছর আগে ইসরাইল যখন অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনীদের ভূখন্ডকে দখল করে নেয় তখন তাতে সরাসরি বৈধতা দিয়েছিল বৃটেন। আর ইসরাইলকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। দুই পরাশক্তির এহেন সহযোগিতা ইসরাইলকে বেপরোয়া বানিয়ে দেয় আর ফলশ্রুতিতে মাত্র এক যুগের মধ্যেই গাজা ও পশ্চিম তীরের মানুষের জীবনকে ইসরাইল দুর্বিষহ করে তোলে। ইসরাইলীরা ফিলিস্তিনীদেরকে খাবারের কষ্ট দেয়, আবাসন কেড়ে নেয়, পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং সেই সাথে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত করে। সেই অবস্থা যে শুধু এখনো চলছে তাই নয় বরং পরিস্থিতি আসলে পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেকটাই ভয়াবহ।

গাজা ঘুরে এসে এক পর্যবেক্ষক সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “গাজার মানুষেরা যেভাবে বেঁচে আছে হয়তো নরকেও মানুষ এর চেয়ে ভাল অবস্থায় থাকে। সেখানকার মানুষ খাবার পায় না, বাড়ীগুলো খালি পড়ে আছে, সারাদিনের মাত্র দুই ঘন্টা সময় তারা বিদ্যুৎ পায়, কল ছাড়লে পানিও তারা পায় না। পাশাপাশি বেকারত্ব তাদের এইসব কষ্টকে যেন আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।”

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আন্তর্জাতিক পরাশক্তির নগ্ন সমর্থন পেয়ে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ তাদের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে জোরদার করেছে। গত কয়েক মাসে ইসরাইলী সরকার শুধুমাত্র পশ্চিম তীরেই নতুন করে ৩ হাজার ৭শ ৩৬টি ইহুদি বসতি স্থাপনের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে তারা ফিলিস্তিনীদেরকে এই বার্তাই দিয়েছে যে এখন থেকে এই ইহুদীরা এখানেই থাকবে। সব মিলিয়ে এই ইহুদি স্থাপনাগুলোতে বসবাসরত ইহুদীদের সংখ্যা এখন ৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনীরা নিরাপত্তার অযুহাতে প্রতিদিন তাদের আদি ভূমিগুলোকে হারাচ্ছে। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা মূল সড়কের পাশে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। প্রকারান্তরে ফিলিস্তিনীদেরকে উঠতে, বসতে কিংবা চলতে চেকপয়েন্ট মোকাবেলা করতে হয়। দেয়াল টপকিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। কাজ করার জন্য বা কোথাও যাওয়ার জন্য ইসরাইলীদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অবস্থা এমন হয়েছে যে, একজন ফিলিস্তিনী নাগরিক হয়তো তার বাড়ী থেকে ভূমধ্যসাগর দেখতে পারে কিন্তু সেই সাগরের পাড়ে যাওয়ার জন্য তার ইসরাইলীদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনেক ফিলিস্তিনী শিশু হয়তো সাগরের গল্পই শুনে যায়, কিন্তু এতসব নিয়মকানুন মেনে তাদের কখনো সেই সাগরের কাছেই যাওয়া হয় না। তাদের অনেকের কাছেই সাগরভ্রমণ এখন একটি স্বপ্নের মত।

প্রায় দিনই নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বানোয়াট অযুহাতে ফিলিস্তিনীদের বাড়ীগুলোকে ধ্বংস করে দেয় ইসরাইলী প্রশাসন। অনেক সময়ই ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনীদের বাড়ী ভাঙ্গে কারণ বাড়ীটি নাকি অনুমতি নিয়ে বানানো হয়নি। কিন্তু যখন ফিলিস্তিনীরা বাড়ী বানানোর অনুমতি আনতে যায় তখন তাদেরকে হয়তো আর অনুমতিই দেয়া হয় না কিংবা অনুমতি দিলেও অনেক বেশী টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে একজন মানুষের প্রতিদিন ১০০ লিটার পানি পেতে পারে। অথচ একজন ফিলিস্তিনী নাগরিক কখনোই ৭৩ লিটারের বেশী পানি পায় না। অন্যদিকে ইসরাইলের একজন নাগরিক পায় ৩০০ লিটারেরও বেশী পানি। ফিলিস্তিনী শিশুরা স্কুলে পড়তে গেলে তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। ফলে বিগত কয়েক বছরে স্কুলে ফিলিস্তিনী শিশুদের ড্রপআউটের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে। ছেলে-মেয়েরা এত বিড়ম্বনার মধ্যে দিয়ে স্কুলে যাওয়ার বা পড়াশোনা করার আগ্রহটাও হারিয়ে ফেলছে।
অতি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক আইনী সংস্থা একটি জরিপ চালিয়ে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের ভূখন্ডে যত পুরুষ মানুষ আছেন তার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন নানা ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগে কারাগারে আটক আছেন। এদেরকে কোন বেসামরিক বা সামরিক আইনের আওতায় এনে বিচার করা হয় না। ফলে মূলত তারা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় আটক আছেন এবং ততদিনই থাকতে বাধ্য থাকবেন যতদিন ইসরাইলী প্রশাসন চাইবে। এই বিপুলসংখ্যক বন্দী ফিলিস্তিনীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও নেই, কোন বিচার প্রক্রিয়াও চলমান নেই। এমনকি ইসরাইলী বন্দীশালায় অনেক ফিলিস্তিনী শিশুও আটক আছে, যাদের বিরুদ্ধে পাথর ছোঁড়া ছাড়া আর কোন অভিযোগই নেই। আর ইসরাইলী প্রশাসন সম্প্রতি যেই আইন অনুমোদন করেছে তার আওতায় শুধু পাথর ছোঁড়ার অপরাধে একটি শিশুকে ১০ থেকে ২০ বছরের কারাদন্ড দেয়া যেতে পারে।

ইসরাইলীরা পরিকল্পিতভাবে গাজায় এই ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছে যাতে তারা হয় নিজ ভূমি থেকে পালিয়ে যায় (যদিও সেটা খুব সহজ নয়) অথবা এখানেই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করে। তারপরও চলমান প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশ নেয়া ফিলিস্তিনীরা বলছেন, “আমরা কখনোই ইসরাইলী দখলদারদের চাপে নিজেদের মাটি ছেড়ে যাবো না। আমরা জয়তুন গাছের শিকড়ের মতই শক্ত হয়ে আমাদের মাটিতে গেড়ে বসে থাকবো।”

তবে এত নিপীড়নের পরও ফিলিস্তিনী মজলুম মানুষগুলো আমাদের প্রেরণার জায়গা। যখনই ইসরাইল মনে করেছে যে দখলদারিত্ব দিয়ে, বর্বরতা দিয়ে, শোষণ করে, না খাইয়ে রেখে তারা ফিলিস্তিনীদেরকে শায়েস্তা করতে পেরেছে তখনই ফিলিস্তিনীরা এই ‘গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ কর্মসূচীটি ঘোষণা করেছে। যা প্রমাণ করেছে ফিলিস্তিনীরা বীরের জাতি। জুলুম করে তাদেরকে নিঃশেষ করা যাবে না। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচী এবং তাতে ফিলিস্তিনের সর্বস্তরের মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইসরাইলীদেরকে বিস্মিত করেছে। ইসরাইলীরা এখন বুঝতেই পারছে না, কিভাবে তারা এই ফিলিস্তিনীদেরকে মোকাবেলা করবে। তারা গুলি করছে যাতে ফিলিস্তিনীরা সহিংসতায় লিপ্ত হয় আর সেই সুযোগে তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা যায়। কিন্তু ইসরাইলের সেই ফাঁদেও ফিলিস্তিনীরা পা দিচ্ছে না। বরং ইসরাইলী আরো জুলুমবাজ ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃত হচ্ছে। মাত্র ১৭ বছরের আহেদ তামিমি এই চলমান বিক্ষোভে ফিলিস্তিনীদের জন্য প্রেরণার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এই কিশোরী যেভাবে ইসরাইলী সেনাকে চড় মেরেছে, লাথি দিয়েছে সেই ছবি ও ভিডিওগুলো ইতোমধ্যেই গোটা বিশ্বে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলীরা তার বাড়ী ধ্বংস করেছে, তার ভাইকে গুলি করেছে কিন্তু তথাপি সে দমে যায়নি। ইসরাইলী সেনারা তাকে আটক করে ৮ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ঠিকই কিন্তু তার সাহসী কর্মকান্ড তাকে ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ আন্দোলনের নব্য ‘জোয়ান অব আক’ উপাধিতে অধিষ্ঠিত করেছে।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো জাতিসংঘ, ওআইসি এবং মুসলিম দেশগুলো ইসরাইলের চলমান বর্বরতা নিরসনে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ নিতে পারেনি। অতীতে দুই পক্ষের মধ্যে অনেক চুক্তি হলেও ইসরাইল কখনোই তা মানেনি। তাদের গণহত্যা ও নিপীড়নমূলক মানসিকতার কারণে গোটা ফিলিস্তিন এখন মধ্যপ্রাচ্যের আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যার একটাই সমাধান। সম্প্রতি প্রিন্সটনের অধ্যাপক রিচার্ড ফালকও একই কথাই বলছিলেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ আলোচনার দিন শেষ। এখন গোটা বিশ্বের মানবতাবাদী মহলগুলোকে একমত হয়ে অবিলম্বে ইসরাইলকে বয়কট করতে হবে। ইসরাইলে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে। ইসরাইলের উপর অবরোধ আরোপ করতে হবে। ন্যায়বিচার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন ইসরাইলকে গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে একঘরে করে ফেলা সম্ভব হবে।”

আমরা মুসলমান হিসেবে দোয়া করতে পারি, ভূমিকা রাখতে পারি, আল্লাহ যেন এই ফিলিস্তিনী মজলুম জনপদের জন্য পরিস্থিতিকে অনুকূল ও সহজ করে দেন। তাদের হাতে তাদের নিজ ভূমিকে ফিরিয়ে দেন। ফিলিস্তিনে মুসলমানদের প্রথম কেবলা, আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন বায়তুল মাকদিস অবস্থিত। আল্লাহ যেন এই পবিত্র মসজিদকে, পবিত্র ভূখন্ডকে আবারও মুসলমানদের হাতে ফিরিয়ে দেন।

আমরা আবারও জেরুজালেম বিজয়ী সালাউদ্দিন আইউবীর মত এক বীর যোদ্ধার অপেক্ষায়।

Comments

comments