ইমামকে বেঁধে ন্যাড়া করে মল খাওয়ালো ছাত্রলীগ নেতা

ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের নির্যাতনের শিকার মসজিদের ইমাম মো. আবদুল গফ্ফার

মির্জাগঞ্জে মো. আবদুল গফ্ফার নামে এক ইমামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে ও মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন করেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রাসেল।

অভিযোগে জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রাসেল ও তার সঙ্গীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জাগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ নির্যাতিত ইমামকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ সময় ঘটনায় জড়িত রাসেলের সঙ্গী মো. আনসার ও মো. জলিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মির্জাগঞ্জ থানায় নির্যাতিত ইমামের বড় ভাই মো. রাজ্জাক বাদী হয়ে রাসেলসহ ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, আবদুল গফ্ফার উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়ার সোনাপুরা গ্রামের লতিফ হাওলাদারের ছেলে।

তিনি পাশের বেতাগী উপজেলার মিয়ারহাট গ্রামের একটি জামে মসজিদে ইমামমতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। অবসর সময়ে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসা করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ইমাম আবদুল গফ্ফারকে ফোন করে একজন অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা (ঝাড়ফুঁক) দেয়ার কথা বলে দক্ষিণ মির্জাগঞ্জে নিয়ে আসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও তার দলবল।

সেখান থেকে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নির্জন এলাকায় নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাসেল, আনসার, জলিল ও তাদের দলবল অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে টয়লেট থেকে মানুষের মল নিয়ে ইমামের মুখে ঢেলে দেয় এবং মাথা ন্যাড়া করে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় গফ্ফারকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে মো. আনসার ও মো. জলিলকে গ্রেফতার করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবদুল গফ্ফার বলেন, আমি মির্জাগঞ্জ দরবার শরিফে কিছুদিন চাকরি করেছি, তখন থেকে ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের সঙ্গে পরিচয়। আমার কাছে বিশ্বাস করে কিছু রোগী আসত ঝাড়ফুঁক নেয়ার জন্য। আমি আল্লাহর কালাম পড়ে পানিপড়া দিলে অনেকে ভালো হয়েছে। তবে আমি কখনও মানুষের ক্ষতি করিনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, রাসেল একসময় মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল। বর্তমানে সে কোনো কমিটিতে নেই। তবে সে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নেয়।

মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। অভিযুক্তদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Comments

comments