প্রভোস্ট পরিচয়ে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবিতা রেজওয়ানা রহমান (ফাইল ফটো)

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় গভীর রাতে অমানবিকভাবে হল থেকে ছাত্রী বের করে দেয়া ঢাবি শিক্ষক সাবিতা রেজওয়ানা রহমান যুব মহিলা লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলে খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই তিনি কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত হলে অবস্থানরত ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেছেন তিনি। এসময় দম্ভভরে তিনি এ ঘোষণাও দেন যে, ‘আমি দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব।’

মূলত শুরু থেকেই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হয়েই তিনি কাজ করে আসছিলেন। এবং ওই হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে ক্ষমতার অপব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন ঢাবির শিক্ষক পরিচয়ধারী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবিতা রেজওয়ানা রহমান। যার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে ছাত্রলীগ নেত্রী এশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণপিটুনি ও জুতার মালার শিকার হন।

ছাত্রলীগ সভাপতি এশাকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে হলে এনে আবারো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই সাবিতা আওয়ামী লীগের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করছেন হলের সাধারণ ছাত্রীরা। কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়ায় গত বৃহস্পতিবার (১৯এপ্রিল) রাতে অন্তত ২০ জন আবাসিক ছাত্রীকে বের করে দিয়েছেন এই যুব মহিলা লীগের নেতা। রাত সাড়ে ১১ টা থেকে রাত সাড়ে ১২ টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৯ জন ছাত্রী হল থেকে বেরিয়ে যান। গভীর রাত পর্যন্ত হলের প্রত্যেকটি ফ্লোরে প্রভোস্ট সাবিতার নেতৃত্বে তল্লাশীর নামে চালানো হয় তান্ডব।

এসময় যুব মহিলা লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রদীপ্ত ভবনের নিচে ছাত্রীদের ডেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। এ নিয়ে একটি অডিও রেকর্ডও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।

ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে যুব মহিলা লীগের এই নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়। ইনটেলিজেন্স সেল দেখবে যে কারা কারা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিচ্ছে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট অ্যানি ইনভলভমেন্ট। এরপর এই হলে ছাত্রলীগ যদি গন্ডগোল করে আমাকে বিচার দেবে। জেনারেল মেয়ে গন্ডগোল করলে আমাকে বিচার দেবে। এখন থেকে হলে সিট হল প্রশাসন দেবে। আর কোনো পয়েন্টে এর বাইরে আর সিট হবে না।

হলে যদি আর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বা তোমরা কোনো পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করো হলকে বিভ্রান্ত করার জন্য, তাহলে কিন্তু আমরা সরকারকে বলব…আমার নলেজের বাইরে আমার ভিডিও যে আপলোড করে সেটা কিন্তু ক্রাইম। আজকে আমি বলে দিলাম সেটা কিন্তু সাইবার ক্রাইম…আই ওয়ান্ট টু বি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। কারও কিছু প্রশ্ন আছে?’

জবাবে ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেত্রী ইশরাত জাহান এশাকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটেছে, তাতে হলের দুই হাজার ছাত্রী সম্পৃক্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন। তখন সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘দুই হাজার মেয়ে কিছু করেনি। আমার সিসিটিভি ফুটেজে আছে কারা কারা করেছে। দুই হাজার মেয়ে সাক্ষর দাও, আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেব। আমি দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব।’

এদিকে মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার অভিযোগে হলটির প্রাধ্যক্ষ যুব মহিলা লীগ নেতা সাবিতা রেজওয়ানা চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ চান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা সংগঠনটির নেতারা।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটার পর বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই দাবি জানান তারা।

সাবিতা রেজওয়ানা চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নূরুল হকের দাবি ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়ায় ছাত্রীরা সাংবাদিকদের কাছে প্রকৃত ঘটনার তথ্য প্রকাশ করতে পারেননি। ওই ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষ সাবিতাকে দায়ী করে অনতিবিলম্বে তার অপসারণ চান কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করা সংগঠনটি।

সংগঠনটির যুগ্ম-সমন্বয়ক নূরুল হক বলেন, ‘অনতিবিলম্বে প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করতে হবে। আর যেসব মেয়েদের বের করে দেওয়া হয়েছে তাদের অবিলম্বে সম্মানের সহিত ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে বাংলার ছাত্রসমাজ আবারও রাস্তায় নামবে।’

এ সময় বের করে দেয়া ছাত্রীদের হলে ফেরত নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তিনি।

Comments

comments