এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে অবস্থিত সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘গেস্ট রুম ভেঙে ফেলো’, ‘এহসান-রফিকদের অন্ধত্ব আর কত?’, ‘আপনার নীরবতায় আমরা লজ্জিত’, ‘আমরা সবাই কানা, এই কানার রাজত্বে’, ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে’, ‘নিপীড়ক মুক্ত ক্যাম্পাস চাই’, ইত্যাদি।

এ সময় উম্মে হাবিবা বেনজির নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এই হামলার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হলের ত্রাস এশা। ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রহসনের মাধ্যমে তাকে আবার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

মানববন্ধনে আবু রায়হান বলেন, ‘এশাকে শুধু রগ কাটার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়নি। তাকে হলের ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অপরাধেও বহিষ্কার করা হয়েছিল। এসব কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সে সময় সাক্ষাৎকারে বলেছেন। কিন্তু এখন আমরা কি দেখতে পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমরা প্রশাসনের একপাক্ষিক এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই।’

এ সময় উম্মে হাবিবা বেনজির নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এই হামলার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হলের ত্রাস এশা। ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রহসনের মাধ্যমে তাকে আবার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

গত ১১ এপ্রিল রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশরাত জাহান এশার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়ায় হলের ছাত্রীদের নিপীড়ন এবং শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমের পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরপরই হলের ভেতর এবং বাইরে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়। এশার গলায় জুতার মালা পরানো হয়।

পরে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় এশাকে বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রগকাটার ঘটনা মিথ্যা ও গুজব প্রমাণিত হওয়ায় এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ছাত্রলীগ। তাকে হেনস্থা করার অভিযোগে ১৬ এপ্রিল মোর্শেদা খানমসহ ২৪ ছাত্রলীগ নেত্রীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। এই বহিষ্কারাদেশ নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।অনেকে বলছেন, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই ২৪ ছাত্রলীগ নেত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Comments

comments