চাঁদাবাজির নতুন ভিডিও ভাইরাল, বহিষ্কার এড়াতে পদত্যাগ রনির

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার ইউনিএইড কোচিং এর পরিচালক রাশেদ মিয়াকে মারধর করছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে মারতে মারতে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যান নুরুল আজিম রনি। পুলিশের উপস্থিতিতে সেখানেও কলেজটির প্রধানের উপর হামলে পড়ে রনির অনুসারীরা। সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হয় এ বছরের ৩১ মার্চ ও ১লা এপ্রিলে।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে মারধরের পর অধ্যক্ষ জাহেদ জানিয়েছিলেন এক বছরে ১০ লাখ চাঁদা নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। আরও ২০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য বেশ কিছুদিন থেকে জাহেদকে রনি হুমকি দিয়ে আসছিলেন। টাকা না দেয়ায় ৩১ মার্চ কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষ জাহেদকে মারধর করা হয়।

আহত ইউনিএইড কোচিং পরিচালক রাশেদ মিয়া

কিন্তু রনি বলেছে ভিন্ন কথা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ায় নাকি সে অধ্যক্ষ জাহেদকে মারধর করেছে! ব্যায় সাশ্রয় করতে তখন রনির এই ন্যাক্কারজনক কাজের সমর্থনও করেছিল এক শ্রেণির অভিভাবক ও ছাত্র। কিন্তু এটা যে রনির চাঁদাবাজির ক্ষেত্র তৈরীর পরিকল্পনা ছিল তা ছিল অনেকেরই অজানা। যখন অধ্যক্ষ জাহেদ রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন, এরপর থেকেই মিডিয়ায় প্রকাশ পেতে থাকে ছাত্রলীগ নেতা রনির নানা কুকীর্র্তি।

এরই অংশ হিসেবে আজ সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ইউনিএইড কোচিং এর পরিচালক রাশেদ মিয়াকে নির্মমভাবে মারপিট করার ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর বের হতে থাকে ইউনিএইড কোচিং এর রাশেদ মিয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর। এই ঘটনায় কোচিং পরিচালক রাশেদ মিয়া চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছন। মামলায় নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ও নোমান চৌধুরী রাকিবসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করা হয়।

রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলার কপি

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা রনি কোচিং পরিচালকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নয়তো এখানে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না বলে হুমকী দেন। চাঁদা কোথা থেকে দিবো বলার পরই কোচিং পরিচালককে চড়, থাপ্পড় মারতে শুরু করেন রনি। এরপর গত ১৩ এপ্রিল রনি ও রাকিবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তার কাছে পূর্বের দাবি করা চাঁদার ২০ লাখ টাকা দিতে বলে এবং হকিস্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে এলাপাথাড়ি মারপিট করতে থাকে। তাদের নির্যাতনে কোচিং পরিচালক রাশেদ মিয়া তার বাম কানে ব্যাপক আঘাত পান এবং শ্রবণ শক্তি সম্পূর্ণরুপে হারিয়ে ফেলেন।

ছাত্রলীগ নেতা রনি তাকে হুমকী দেন চাঁদার ২০ লাখ টাকা দিলে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে, নয়তো মেরে ফেলবে। তখন রাশেদ মিয়া জীবন বাঁচাতে তার বাসায় থাকা ৪০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয় এবং বাকিটা পরে দিবে বলে জানায়। কিন্তু এতে রনি রাজি হয়নি, সে বাকি টাকা না দেয়া পর্যন্ত তার পাসপোর্ট তার কাছে জমা দিতে বলে। কথামত রাশেদ মিয়া তার বাসায় থাকা ৩৫ হাজার টাকা তাকে দেয় এবং রনি জোরপূর্বক রাশেদ মিয়া ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট নিয়ে আসে। টাকা দিয়ে পাসপোর্ট ফেরত নিতে বলে রনি। পরে রাশেদ মিয়াকে রনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মোটর সাইকেলে করে রাস্তায় পাশে রেখে চলে যায়।

সামাজিক মাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে এসব আলোচনায় আসলে ইমেজ বাঁচাতে রনিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্রলীগ। আর এসব আঁচ করতে পেরেই চতুর রনি আজ বিকেলে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়। রনির নামে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ চট্টগ্রাম বিভাগে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও নুরুল আজিম রনি একটি অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী।

এদিকে নানা অপকর্মের অভিযোগ থাকার পরেও বহিষ্কার না করে নুরুল আজিম রনিকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রনিকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১৩ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন নুরুল আজিম রনি। আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবেই তিনি এ পদ পান। যদিও এর আগে ছাত্রলীগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে রনি ছিলেন না। সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক অঘটন ঘটানো শুরু করেন। তার অপকর্ম পুরো সংগঠনের কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

হাটহাজারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অস্ত্রসহ ধরা পড়েন রনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাজা দেন।

Comments

comments