বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারতের মনোজ!

বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের মোদি সরকার কী আগের অবস্থানই নেবে?

বাংলাদেশে এ বছরের শেষে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেটির ব্যাপারে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের চিন্তা-ভাবনা কী?

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে একটি ভারতীয় থিংক ট্যাংক এই নির্বাচন সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিস্টিংগুইশড ফেলো মনোজ যোশী এই নির্বাচনকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।

মনোজ যোশীর এই বিশ্লেষণটি বুধবার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন প্রকাশ করে। ‘বাংলাদেশ পোলস পোজ এ চ্যালেঞ্জ টু রিজিওনাল স্টেবিলিটি’ নামে এই লেখায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের ভাবনা সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত রয়েছে।

মনোজ যোশি লিখেছেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়, তাতে মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে এবং সেসময় অনেক সহিংসতা হয়। কাজেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশা বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন যেন আগের বারের চাইতে বিশ্বাসযোগ্য হয়।

কিন্তু মনোজ যোশি তার রিসার্চে অসত্য তথ্য তুলে ধরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনে ৫ শতাংশ বা তারচেয়েও কম ভোট পড়েছিল। মোট ৩০০ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৩ টি আসনেই আওয়ামী লীগের সদস্যরা বিনাভোটে আসন দখল করেছেন। আর বাকী আসনগুলোতেও মূলত আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী এবং গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির মধ্যে নামমাত্র প্রতিদ্বন্দিতা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ জনগণই ভোট দিতে যায়নি বা ভোট দিতে পারেনি।

বিএনপির ব্যাপারে ভারতের সন্দেহ

মনোজ যোশী অবশ্য এতদিনের বাতাসে উড়ে বেড়ানোর মত একটা তথ্যকে সত্যতা দিয়েছেন। আর তা হলো বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ভারত মূলত উদ্বেগের চোখে দেখে। এর কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়েও তিনি মিথ্যাচার করেছেন।

তার দাবি, ভারত বিএনপির ব্যাপারে সন্দিহান। বিএনপি এর আগে যে দু দফা ক্ষমতায় ছিল (১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) সেসময় বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদ শেকড় গেড়েছিল এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের সমর্থন পেয়েছিল। আর বাংলাদেশ এই বিষয়টি না দেখার ভান করেছিল। বাংলাদেশে যেভাবে ইসলামী জঙ্গীদের তৎপরতা বাড়ছে, এমনকি আত্মঘাতী হামলা পর্যন্ত হয়েছে, সেখানে এই সমস্যা মোকাবেলায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে ভারত।

অথচ এটি মনোজ যোশীর ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা মাত্র। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় জেএমবির নামে যারা কথিত জঙ্গিবাদের উত্থানের চেষ্টা করেছিলেন তাদের অনেকেই ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থার নিকট থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শুধু প্রশিক্ষণই নয়, তাদেরকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন জোট সরকারকে বিতর্কিত করতে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহও করেছে ভারত। আর তাদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ভারতের কথিত বন্ধু আওয়ামী লীগ সব সময় কাছে থেকে সহযোগীতা করেছে কথিত ওই জঙ্গী গোষ্ঠীকে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মীর্যা আযম এর দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমান ও তার ভাই আতাউর রহমান সানিকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়া হয়েছিল।

আর কথিত জঙ্গিদের তৎপরতা বাড়ার যে তথ্য মনোজ দিয়েছেন তার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের সময়ে।

মনোজ যোশী লিখেছেন, “কিছু ভারতীয় কর্মকর্তা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ এবং তৃতীয় দেশগুলোর গুপ্ত সংস্থার তৎপরতা মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাদের একযোগে কাজ করার অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। তার বলছেন, ইসলাম জঙ্গীবাদ দমনে শেখ হাসিনা খুবই সক্রিয়। অথচ বিএনপি ইসলামী জঙ্গীবাদে যদি উৎসাহ নাও দিয়ে থাকে, তারা এটিকে সহ্য করেছে।”

এটিও অসত্য তথ্য। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারই সর্বপ্রথম জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা দেখিয়েছে। যে সফলতার মুখ ভারতের মত রাষ্ট্রও দেখাতে পারেনি। জেএমবি পরিচয়ধারী জঙ্গিগোষ্ঠীকে সমূলে উৎপাটন বিএনপি নেতৃত্বাধী ৪ দলীয় সরকারই করেছিল।

অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে অনেক ধূ ধূ মরুভূমি

নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা

মনোজ যোশী আরও একটি বিভ্রান্তিমূলক তথ্য তুলে ধরে বলছেন, বাংলাদেশে যে নির্বাচন এ বছরের শেষে হওয়ার কথা, সেটাকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক, কিন্তু তারা চায় একটি ‘দলনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের’ অধীনে এই নির্বাচন হোক, যে কমিশন নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে সম্প্রতি তারা ‘কেয়ারটেকার সরকারের’ অধীনে নির্বাচনের দাবিতেও আন্দোলন শুরু করেছে।

মূলত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর থেকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ‘দলনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন’ নয় ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। যা আদালতকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকার ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে দিয়েছিল।

তাবেদারী না করায় বিএনপির ব্যাপারে ভারতের সন্দেহ কাটছে না

মনোজ যোশী মনে করেন, বিএনপির সাবেক প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী এখন আর নিবন্ধিত দলও নয়, কাজেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। কিন্ত দলটি তাদের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের’ মাধ্যমে এখনো রাস্তায় লোক জড়ো করার উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রাখে।

মনোজ যোশীর এ ধারণা ভুল। জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সাবেক প্রধান মিত্র নয়, এখনও পর্যন্ত জামায়াত বিএনপির প্রধান মিত্র। আর মনোজ যোশী মূলত শান্তনা খোঁজার বৃথা চেষ্টা করেছেন এই ভেবে যে, কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে জামায়াত প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। আর তাদের নিবন্ধনও নেই। কিন্তু বাস্তবতা আসলে কি তা বাংলাদেশের মানুষ ভালোই জানে। মিথ্যা অপবাদে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার কারণে বাংলাদেশে জামায়াতের জনপ্রিয়তা কতখানি বেড়েছে তা সময় বলে দেবে। তবে, জামায়াত নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে হত্যা ও জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে যে বাংলাদেশ সরকারের চেয়ে ভারতের হস্তক্ষেপই বেশি ছিল তা মনোজ যোশীর এ উদ্বেগই প্রমাণ করে দেয়।

নির্বাচনে শেখ হাসিনার সমস্যা মূলত দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা থেকে উৎসারিত। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আলাদা ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যদিও ভালো করছে, ভারতের চেয়েও তাদের প্রবৃদ্ধি ভালো, তারপরও সরকারের ভেতর অনেক দুর্বলতা রয়ে গেছে যা সহজে কাটানো যাচ্ছে না।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা

মনোজ যোশী বলছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখনো পর্যন্ত যদিও নিরপেক্ষ, ২০০৬ সালে কিন্তু তারা একটি কেয়ারটেকার সরকারকে দুবছর ধরে মদত দিতে হস্তক্ষেপ করেছিল।

মনোজ যোশী মনে করেন, যদি আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে, তখন এমন সম্ভাবনা আছে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সেনাবাহিনীকে টেনে আনা হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনা এখনো পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে তার খুব কাছাকাছি রেখেছেন। তিনি সেনাবাহিনীর আকার দ্বিগুন করেছেন, তাদের জন্য বাজেট বাড়িয়েছেন উদারভাবে, নতুন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছেন এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত করেছেন।

মনোজ যোশীর এ বিশ্লেষণ অবশ্য যৌক্তিক। এবং এখানে তিনি যে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন তা যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভারতের ইশারাতেই করেছে তা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মনোজ বাবুর আশঙ্কা দূর করার মত অবশ্য অবস্থা নেই। কারণ, দেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে দ্বিগুণ আকার লাভ করা সেনাবাহিনী বেঁকে বসলে যেকোন সময় মনোজ বাবুদের তাসের ঘর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে তাতে সন্দেহ নেই।

আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে একতরফা নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ভুরু কুঁচকিয়েছিল। কিন্তু এটি চীনকে সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার। চীনের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব দুদিক থেকে- প্রথমত ভারতকে মোকাবেলায় কাজে লাগানো, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের মুখে এবং মিয়ামারের প্রতিবেশি হিসেবে বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক অবস্থান সেটিকে কাজে লাগানো। কারণ মিয়ানমারের রাখাইনে তাদের বিরাট বিনিয়োগ আছে।

মনোজ যোশী বলছেন, ভারত যদিও বাংলাদেশের বহুবছরের মিত্র, এখন চীন সেখানে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০০৭ সালের পর থেকে চীন বাংলাদেশে প্রায় তিনশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। তারা বাংলাদেশে সেতু, সড়ক থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অনেক কিছুই নির্মাণ করছে। তারা এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র যোগানদাতা। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে গিয়ে আরও দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে চীন হয়ে উঠবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

এ অবস্থায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাহলে কী দাঁড়াতে পারে? এ প্রশ্ন তুলে মনোজ যোশী দুই ধরণের আশংকার কথা বলছেন।

এক: সবচেয়ে খারাপ যে পরিস্থিতির দিকে বাংলাদেশ যেতে পারে তা হলো সেখানে সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলি দুর্বল হয়ে ইসলামী গোষ্ঠীগুলো সেখানে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে সেনা সরকার গঠিত হতে পরে, যেটি দেশটির ইতিহাসে এর আগে কয়েক বার ঘটেছে।

মনোজ যোশীর উপসংহার হচ্ছে, এই মূহুর্তে বাংলাদেশ হয়তো তুলনামূলকভাবে একটি ভালো অবস্থানে আছে, কিন্তু ভবিষ্যতে নতুন ধরণের খুবই সহিংস এক ইসলামী জঙ্গীবাদ দেশটিকে ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলতে পারে।

নিজ দেশে জঙ্গিবাদ আর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আখড়া থাকলেও মনোজ যোশী সেসব নিয়ে ততটা চিন্তত না, যতটা তিনি চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশ নিয়ে।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন ভারতের নীতিনির্ধারণে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

ওআরএফ কারা চালায়?

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) ভারতের একটি সুপরিচিত থিংক ট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ওআরএফ নিজেদেরকে ‘স্বাধীন’ বলে দাবি করলেও ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী রিলায়েন্সের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রিলায়েন্স গ্রুপ এই থিংক ট্যাংকের অন্যতম স্পন্সর। একই সঙ্গে ভারত সরকারের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে এক যোগে কাজ করে ওআরএফ।

ভারত সরকারের আঞ্চলিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন এখন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করা হয়।

ওআরএফ এর ফেলো মনোজ যোশী ভারতের একজন সাংবাদিক এবং তিনি ভারত সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের একজন সদস্য ছিলেন।

Comments

comments