বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে ভোট চেয়ে তোপের মুখে এমপি কুদ্দুস

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের অনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের নির্বাচনী প্রচরণার একটি বিলবোর্ড নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিলবোর্ডটি নিয়ে সমালোচনায় মুখর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও।

আলোচিত বিলবোর্ডে লেখা রয়েছে- ‘আমার কুদ্দুসকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’ লেখাটির বাম পাশে ব্যবহার করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আঙ্গুল উঁচিয়ে বক্তব্য রাখা একটি ঐতিহাসিক ছবি আর নিচে বঙ্গবন্ধুর নাম।

এই বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে বড়াইগ্রাম উপজেলার ব্যস্ততম বনপাড়া বাইপাস মহাসড়কের পাশে কালিকাপুর স্কুল মাঠ সংলগ্ন এলাকায়।

এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী এবং গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহ নেওয়াজ আলী মোল্লাসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্যানারটি প্রস্তুত করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের অনুসারীরা। সরাসরি জাতির জনককে উদ্ধৃত করে এমন ভোট প্রার্থনা নজিরবিহীন।

একইসঙ্গে জাতির জনকের কাল্পনিক জবানিতে এই ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে চরম অসম্মান করা হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

তবে বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার কুদ্দুসকে নৌকায় মার্কায় ভোট দিন’-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে এই বিলবোর্ডটি তারা লাগিয়েছেন। এই কথাটির পেছনের ইতিহাস জানতে হবে।

তিনি জানান, ১৯৭৪ সালে আবদুল কুদ্দুসকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।

মিজানুর রহমান বলেন, আবদুল কুদ্দুসের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে সে সময় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতারা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আকাশ পথে ঢাকায় নিয়ে যান। ওই সময় সংকটাপূর্ণ অবস্থায় বাবার নাম না পাওয়ায় হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় আবদুল কুদ্দুসের প্রযত্নে নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লেখা হয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসকে সন্তানের মতোই দেখতেন এবং স্নেহ করতেন। সেই আলোকেই তারা বিলবোর্ডে এই কথাটি লিখেছেন।

জানতে চাইলে সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছেন। পর পর চারবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামকে আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত করেছেন। আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

Comments

comments