জেলগেট থেকে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণ করল সাদা পোষাকের পুলিশ!

সাদা পোষাকের পুলিশ কর্তৃক জেলগেট থেকে অপহৃত জামায়াত নেতা মোঃ গোলাম মোস্তফা

এবারও দেখে ফেললো জনগণ: অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ির নং ঢাকা মেট্রো -চ- ৫১-৬৬৭৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলগেট থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ গোলাম মোস্তফাকে দুর্ধর্ষভাবে সাদা পোশাকের একদল অস্ত্রধারী লোক অপহরণ করে ধরে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার তিনি দীর্ঘ ২ মাস ২৪ দিন কারাভোগের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক এই সভাপতি। জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার আটজনের তালিকায় সবশেষ সিরিয়ালে তার নাম ছিল।

গতকাল বিকেল ৫:৫৫ মিনিটের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলগেট থেকে বের হওয়ার পরই ওৎ পেতে থাকা সাদা পোশাকে একদল পুলিশ মহামান্য হাইকোর্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাকে দুর্ধর্ষভাবে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল গেটের এই দুর্ধর্ষ অপহরণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন অনেকে। সাদা পোশাকে অপহরণকারীরা যে সাদা মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করে সেটির গাড়ির নং ঢাকা মেট্রো -চ- ৫১-৬৬৭৯। এটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে অভিযোগ করেছেন সাদা পোশাকে অপহরণকারী দলটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। অপহরণের টার্গেট করে আগে থেকেই সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আশপাশে সতর্ক অবস্থান করছিলেন।

বিকেল ৫:৫৫ মিনিটের সময় জেলের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জামায়াত নেতা মোঃ গোলাম মোস্তফা জেল গেট দিয়ে বের হওয়ার পরই সাদা পোশাকের অস্ত্রধারী ঐ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে জোর করে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

আকস্মিক চাঞ্চল্যকর এই অপহরণের ঘটনায় পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী হতভাগ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। সাদা পোশাকে অপহরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করার পরও বিনা ওয়ারেন্টে তাকে এভাবে ধরা হলো। যা পক্ষান্তরে মহামান্য হাইকোর্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জননিরাপত্তা ও মৌলিক আইনেরও বিরোধী।

বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের অভিমত, উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর বিনা ওয়ারেন্টে কারা ফটক থেকে এভাবে কাউকে গ্রেফতার করা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং একই সাথে মহামান্য হাইকোর্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনও। যা কখনো কাম্য নয়।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের গ্রেফতার সংবিধানের মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায় বিচারের চরম লংঘন। জামিন পেলে বিনা ওয়ারেন্টে কোনো মামলা ছাড়া গ্রেফতার করা বাংলাদেশের কেন পৃথিবীর কোনো আইনেই সম্ভব নয়। যা হয়েছে সম্পূর্ণরূপে আইনবিরোধী কাজ।

সুশীল সমাজের অভিমত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের বন্ধু ও সেবক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। তারা কোন অবস্থাতেই কাউকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের মতো কাজ করতে পারেন না। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার ফটক থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দুর্ধর্ষ অপহরণের ঘটনা একটি খারাপ নজির স্থাপন করলো। তারা সবাই আশা করেন দ্রুততম সময়ের ভেতর অপহরণের শিকার এই জামায়াত নেতা মোঃ গোলাম মোস্তফাকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

Comments

comments