টিউশনির টাকায় দুই ভাইকে হাফেজ বানিয়েছেন রাজীব

বাবা-মা হারানো রাজীব ছোট দুই ভাই মেহেদি ও হাসানকে নিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখতেন। তিতুমীর কলেজে নিজের পড়াশোনা, টিউশনি ও কম্পিউটারে গ্রাফিকস ও টাইপিংসহ বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাতেন। তার কষ্টের টাকায় ছোট দুই ভাই হাফেজ হয়েছে। এখন তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশোনা শেষে নিজের চাকরি ও পরবর্তীতে দুই ভাই চাকরি বা ব্যবসা করলে সংসারে সুখ আসবে বলে অনেকের কাছে স্বপ্নের কথা বলতেন।

জীবনের সাথে সংগ্রাম করে এতদূর পথচলা সেই রাজীব দেশবাসীকে কাঁদিয়ে ফিরে গেছেন না ফেরার দেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ওই দুই কিশোর। কী করবে, কোথায় যাবে—এমন অনিশ্চয়তায় যেন কাঁদতেও ভুলে গেছে তারা। গতকাল সোমবার রাতে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডান হাত হারানো বড় ভাই রাজীব হোসেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে পাওয়া যায় রাজীবের এই ছোট দুই ভাইকে। আগেই মারা গেছেন মা-বাবা, এবার হারালেন মাথার ওপর একমাত্র ছায়া ভাইকে।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মেহেদী হাসান বলল, ‘এখন তো আর ভাইয়া নেই। কী হবে জানি না।’ ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন রাজীব। এত কষ্টের মাঝেও দুই কিশোরের আশা, কেউ হয়তো তাদের দায়িত্ব নেবেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে অতিক্রম করে।

এ সময় দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতালে ও পরে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রাজীব। এরপর ওই দিন সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজীব চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

Comments

comments