হালাল ইভেন্টের আয়োজন হোক আপনার হাত ধরেই

পাশ্চাত্যে সরকারী বা চ্যারিটি সংস্থার অনুদানে বিভিন্ন ইয়ুথ ক্লাব খোলা হয়। এই ক্লাব বা সেন্টারগুলোর খোলার পেছনে একটা বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে, কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীদের অবসর সময়গুলোকে সৃষ্টিশীল কাজে লাগানো যেন তারা অপরাধের পথে হাটতে সময় না পায় বা উদ্বুদ্ধ না হয়। বই পড়া থেকে আরম্ভ করে খেলাধুলা, শিল্পকলা, নানারকম অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নেয়ার ব্যবস্থা সবই এইসব ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আমরাও বলি অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা। এমনকি যারা ধর্মীয় পরিবারে বড় হই ধর্মীয় রীতিনীতি ফলো করি, তাদেরও অবসর থাকে, সারাদিন কেউ ইবাদত বন্দেগী করতে পারেনা। তখন মানুষ কি করে, হয় পাড়ার মোড়ে গিয়ে আড্ডা দেয়, সিরিয়াল দেখে বা সিনেমা দেখে। মানুষের মন কর্মব্যস্ততা, লেখাপড়ার ফাকে বিনোদন খুজবেই। আর হালাল বিনোদনের সুযোগ না পেলে হারাম বিনোদনে ঝুকবেই। ধর্মীয় দোহাই দিয়ে কিছু লোককে হয়তো আটকাতে পারবেন, পুরো সমাজ কখনই পরিবর্তন করতে পারবেন না, স্বীকার করুন আর না করুন। আমাদের দেশে এক ফাস্ট ফুড জয়েন্টে যাওয়া ছাড়া বিনোদনের ব্যবস্থা নাই বললেই চলে। পাবলিক প্লেসগুলোতে সরকারী অব্যবস্থাপনার কারণে কোথাও পরিবার নিয়ে বিকেলে বেড়িয়ে আসবেন তেমন ব্যবস্থা নেই। বৈশাখী মেলা, ফাল্গুন, বইমেলা এসবে মানুষ ছুটির দিনে ছোটে বিনোদনের আশায়, সব মেয়েরা ওখানে গা দেখাতে আর ছেলেরা গা ছুতে যায় বললেও বিশ্বাস করবনা। কিন্তু আজকে দেখুন তা শয়তানেরা দখল করে নিয়েছে, তাও মানুষ উপচে পড়ছে।

বাংলাদেশের এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে যারা সত্যি চিন্তিত, তাদের এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে। সরকারের দোষ বের করে বা পুলিশের উপর ভরসা করে বা মানুষকে ঘরে বসে থাকতে বলে এই অবস্থার উন্নতি হবেনা। হারাম কাজগুলো সম্পর্কে সোচ্চার হোন, মানুষকে সচেতন করুন, পাশাপাশি তাদেরকে এই হারাম বিনোদনের অলটারনেটিভ দেয়া যায় কিভাবে সেটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবুন।

জায়গায় জায়গায় ভাই ও আপুরা (ভিন্ন) এধরনের ক্লাব গড়ে তুলতে পারেন কিনা, চিন্তা করুন। ধর্মীয় ক্লাব হতেই হবে এমন নয় (সেগুলো আছে বিভিন্ন জায়গায় ও একটি বিশেষ দল শুধু যোগ দেয়), বুক ক্লাব হতে পারে, সেলাই বা রান্না ক্লাব হতে পারে, স্পোর্টস ক্লাব হতে পারে, যেকোন ধরনের উগ্রপন্থীরা যোগ না দিলেও যাতে আর সবাই যোগ দিতে পারে। তারপর সেগুলো থেকে এই বিশেষ ছুটির দিনগুলোতেও অ্যাকটিভিটিজ রাখতে পারেন, যাতে মানুষ দিনটা আনন্দে কাটাতে পারে কোনরূপ হারাম কাজে অংশগ্রহন ছাড়াই।

যারা মোটামুটি অ্যাকটিভ পাড়ায়-মহল্লায় তাদেরকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক বিপ্লব ছোট থেকেই শুরু হয়। আপনিই না হয় শুরু করুন।

চিন্তিত চিন্তাফা এর ফেসবুক পোস্ট থেকে

Comments

comments