এশাকে কলঙ্কমুক্ত করতে ছাত্রলীগের বিশেষ কমিটি!

ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি গঠনের বিবৃতি ও ফুলমাল্য প্রদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখার বহিষ্কৃত নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে দায়মুক্তি দিয়ে কলঙ্কমুক্ত করে আবারো দলে ও ক্যাম্পাসে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। এ কাজে বিভিন্নভাবে তৎপরতা শুরু করেছে দলটির কেন্দ্রীয় সংসদ। এরই মধ্যে এশাকে দায়মুক্তি দিতে কথিত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তারা। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নুসরাত জাহান নুপুর, সহ-সভাপতি নিশীতা ইকবাল নদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্স।

ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তের জন্য এই ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে তদন্ত কমিটিকে আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে সময়ও বেধে দেয়া হয়েছে। যদিও ওই ‍দিনের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এখনও পর্যন্ত কোন দাপ্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইসমাইল হোসেনের কন্যা এশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল মধ্যরাতে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে নির্যাতনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। এর পর পরই ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

ছাত্রলীগ নেত্রী এশার হামলায় আহত শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত পা ও স্যান্ডেল

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়ায় ১১ এপ্রিল মধ্যরাতে কয়েকজন ছাত্রীকে একটি রুমে বন্দী করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালায় ওই হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। এসময় মোরশেদা নামক একজন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করে সে। পরে সিড়িতে রক্ত দেখে এ নির্যাতনের খবর প্রথমে হলে এবং একসময় সারা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় এ নির্যাতনের প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কবি সুফিয়া কামাল হলের গেটে জড়ো হয়। এবং এশাকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। প্রায় ৩ ঘন্টা বিক্ষোভ প্রদর্শণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এশাকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসার পর হলে ফিরে যান বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রলীগ নেত্রী এশা কর্তৃক ছাত্রী নির্যাতনের পর ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এখন অবশ্য এশাকে প্রদত্ত্ব শাস্তি কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক সন্দেহ সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বলছে- এশার জীবন বাঁচাতেই নাকি তারা বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে ফুলের মালা দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন ছাত্রলীগের নেতারা। এতে কতটুকু সুষ্ঠু তদন্ত হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে দেয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, এবং এশা যদি আবারও হলে ফিরে আসে তাহলে তার নির্যাতনের শিকার শত শত ছাত্রী আবারো বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়বে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। সেই সাথে সেদিন যারা এশার নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে তাকে জুতার মালা পড়ানোসহ গণপিটুনির সাথে জড়িত ছিলেন তাদেরকেও শাস্তির মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে।

Comments

comments