আন্দোলনকারীদের ফাঁসাতে সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে ছাত্রলীগ

কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের ফাঁসাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে ছাত্রলীগ। বিশেষ করে ভিসির বাসভবন এলাকায় বর্তমানে কোন সিসি ক্যামেরা নেই। শুধু সিসি ক্যামেরাই নয়, ফুটেজ যেখানে সংরক্ষণ করা হতো সেখান থেকে হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে গেছে তারা।

আর এসবের সুযোগ নিয়েই ভিসির বাসভবনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে একটি মহল।

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা রোববার শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে পুলিশ তাদের রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে সরিয়ে দেয়। এসময় বিপরীত দিক থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহাগ ‍ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী হামলা চালায়। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্য থেকে টিএসসির দিকে অবস্থান নেয়। এসময় সড়কের বাতি নিভিয়ে কয়েক দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনঢ় উপস্থিতির কাছে বার বার পরাস্ত হয় তারা। এই সুযোগে ছাত্রলীগের একটি অংশ ভিসির বাসভবনে ঢুকে পরে। এবং ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে ফেলা হয় ওই এলাকার সকল সিসি ক্যামেরা। এবং রহস্যজনকভাবে তখন সেখানে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের কেউ ছিল না।

ঢাকা কলেজ এলাকা থেকে হামলায় অংশ নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ছাত্রলীগ যখন ক্যাম্পাসে মিছিল করছিল তখনই বাতি নিভিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, ছাত্রী ও ভিসির বাস ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। মিছিলকারীদের মধ্য থেকেই একটি গ্রুপ মুখে কালো কাপড় বেধে ঢাবি ভিসির বাস ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এর আগে সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগের অন্যতম বিতর্কিত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের আন্দোলন দমানোর ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসেন। যার কিছু প্রমাণ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেও রয়েছে।

ভাঙচুরের সময় ঢাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল রানা তখন ভিসি সঙ্গে ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, হামলাকারীরা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে ভিসির বাসায় ঢুকে ভাঙচুর করেছে।

ঢাকার বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আজ ভিসির বাসভবন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ভিসির বাড়িতে হামলার ঘটনার ‘অনেক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। আরও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

“চাক্ষুষ সাক্ষীর জবানবন্দি আমরা নিয়েছি। হামলাকারীরা শুধু সিসি টিভি খুলে নেয়নি, হার্ড ডিস্কটাও খুলে নিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও সিসি টিভি আছে, মিডিয়ার ফুটেজ আছে। আমরা অনেক প্রমাণ পেয়েছি।”

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মনে করেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই ছাত্রলীগ ভিসি স্যারের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে। ভিসির বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীরা কোথায় ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

Comments

comments