কোটা বিরোধী আন্দোলন দমাতে ভিসির বাসভবনে ছাত্রলীগের অগ্নিসংযোগ

ঢাবি ভিসির বাসভবনের সামনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য
  • পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাসার সব আসবাবপত্র
  • জাহাঙ্গীর কবির নানক এসে মঞ্চস্থ করেন নাটক
  • ছাত্রলীগ সভাপতি ও সেক্রেটারীর নেতৃত্বে অগ্নিসংযোগ
  • একাত্তর টিভির সহযোগিতায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় হামলায় সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে পুলিশ বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

এসময় আন্দোলন দমাতে অগ্নিসংযোগ করা হয় ঢাবি ভিসি আখতারুজ্জামানের বাসভবনে আগুন দেয় ছাত্রলীগ। বিকেল থেকেই দফায় দফায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান ছিল টিএসসি কেন্দ্রিক। কিন্তু হঠাৎ করেই রাত ২ টার দিকে একাত্তর টিভি প্রচার শুরু করে যে আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অগ্নিসংযোগ করছে। এসময় সেখানে ক্যামেরা পৌঁছানোর পর দেখা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী সেখানে অবস্থান করছেন। এবং ভিসির বাসভবনের সামনে বেশ কিছু আসবাব পত্রে অগ্নিসংযোগ করার দৃশ্য তখন দেখা যায়। এসময় ক্যামেরার সামনে দুজন কে আন্দোলনকারী বলে ধাওয়া করার দৃশ্য দেখানো হয়। কিন্তু সেই দুজন আসলেই আন্দোলনকারী নাকি ছাত্রলীগের কোন কর্মী তা স্পষ্ট নয়।

এসময় বাড়ির ভেতরে একাত্তর টিভির ক্যামেরা নিয়ে রিপোর্টার হাবিব রহমান প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। এবং বলা হয় বাসভবনের পেছনে একটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। তখন একাত্তরের সাংবাদিক বাসভবনের ভেতরের কোন দৃশ্য না দেখিয়ে তারা বাসভবনের পেছনে পুড়তে থাকা গাড়িটি দেখানো হয়।

ঢাবি ভিসির বাসভবনের পেছনে পুড়ছে একটি গাড়ি

এসময় একাত্তর টিভির সংবাদ পাঠিকা রিপোর্টারের কাছে ভিসি ও তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর খবর জানতে চাইলে বিষয়টি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যান সেখানে উপস্থিত একাত্তর টিভির ওই সাংবাদিক। এছাড়াও রহস্যজনক ব্যাপার হলো, এসব ঘটনা যখন ঘটছিল তখন বাসভবন এলাকায় অন্য কোন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক কিংবা ক্যামেরা পারসনের উপস্থিতি ছিলনা। শুধুমাত্র একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ক্যামেরা পারসন সেখানে অবস্থান করছিলেন। অথচ বিকেল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সকল গণমাধ্যম ও টিভি চ্যানেলের কয়েক শত সাংবাদিক অবস্থান করছিলেন।

ভিসির বাসভবনে বেশ কিছু সময় অবস্থান করার পর ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ ও জাকিরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মধুর ক্যান্টিনের দিকে যেতে থাকে। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সরকারী চাকরীতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলা ও ভিসির বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা আদৌ আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিতে পারবে কিনা তা দেখতে আরও বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে উপর্যূপরি গুলি-টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়াকে দেশবাসী কিভাবে গ্রহন করবে সে ব্যাপারটির জন্যও আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলে আসছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হয় তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরো বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

Comments

comments