রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিখোঁজ

রাজধানীর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিরপুরের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের আশঙ্কা তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ওই ছাত্রের নাম আলী আশফাকুল হাসান ফাহাদ (২৩)। তিনি আব্দুল্লাহপুরের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি অনলাইনভিত্তিক মার্কেটিং কোম্পানি ‘দারাজ ডট কম’-এ কন্টেন্ট ডেভলাপার হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। গত ১ মার্চ (রোববার) সকালে অনলাইন অফিসে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে ফাহাদের সন্ধান চেয়ে তার বড় ভাই আলী নাসের জামিল মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নম্বর-১১, তারিখ: ০১-০৩-০৪) করেছেন।

ফাহাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের যশোদল মধ্যপাড়া গ্রামে। নিখোঁজ ফাহাদ যশোদল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আরশাদ আলীর ছোট ছেলে।

মিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সকাল নয়টার দিকে বড় ভাই জামিলের সঙ্গে ২৮৫, পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হয়ে অনলাইন অফিসে যাওয়ার জন্য ১০ নম্বর রুটের ‘খাজাবাবা’ নামের একটি বাসে ওঠেন। পরে আর বাসায় ফেরেননি আলী আশফাক ফাহাদ।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ফাহাদ সেনপাড়া পর্বতা এলাকার তার কর্মস্থল ‘দারাজ’ অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসে ওঠেন। প্রতিদিন অফিস করে বিকেলে বাসায় চলে এলেও ওইদিন সন্ধ্যায়ও তিনি বাসায় ফেরেননি। পরে ফাহাদের মোবাইল (নম্বর ০১৭০০৭৩১৮২৯) থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে একই বাসায় থাকা তার বড় ভাই আর্কিটেকচার জামিলের মোবাইলে (নম্বর ০১৭৩৪৪২৯৫৮১) একটি রহস্যজনক এসএমএস আসে। এসএমএস এ ইংরেজি টেক্সট এ বাংলায় লিখা হয় ‘নেক্সট টার্গেট তুই আর জিহাদ’। এসএমএস পেয়ে জামিল ফাহাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইলটি এক পর্যায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোবাইল বন্ধ করে দেওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে জামিল ফাহাদের কর্মস্থল ‘দারাজ’ অফিসে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তার ভাই ওইদিন অফিসেই যাননি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও ফাহাদের খোঁজ মেলেনি।

ফাহাদের বড় ভাই জামিল জানান, ফাহাদের মোবাইলে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে রাতেই তিনি মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ফাহাদের বড় ভাই জামিল ও তাদের পরিবারের লোকজন আশঙ্কা করছেন ফাহাদকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপাপ্ত কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম নয়াদিগন্তকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে। আপাতত মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ও মোবাইল ম্যাসেজের সুত্র ধরেই আমরা এগুচ্ছি। তবে ফাহাদকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। অপহরণ করলে তো মুক্তিপণ চাইত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফোন করে কেউ মুক্তিপণ দাবি করেনি।

তবে ঠিক কী কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন তা আন্দাজ করাও যাচ্ছে না। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি ঘটনার রহস্য উদঘাটন কিংবা ফাহাদকে উদ্ধারের।

উল্লেখ্য, ফাহাদরা তিন ভাই। ফাহাদ ছোট। তার বড় জামিল একটি বেসরকারি কোম্পানির সিনিয়র আর্কিটেকচার অফিসার। তারা দুজন ঢাকার মিরপুরে ভাড়া বাসায় একসঙ্গেই থাকতেন। সবার বড় আলী আশরাফুল আলম জিহাদ সিংগাপুর প্রবাসী।

Comments

comments