৫ বছরেও খোঁজ মেলেনি হাফেজ জাকির হোসেনের!

বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়ার ৫ বছর পরেও কোন খোঁজ মেলেনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদাবর থানা সভাপতি হাফেজ জাকির হোসাইনের। বিগত বছরগুলোতে বিরোধীদলীয় অসংখ্য নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেছে। হাফেজ জাকির হোসেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল দিবাগত রাত ৪ টার দিকে সাদা পোশাকধারী একদল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় দানকারী লোক তার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরের দিন (০৩.০৪.১৩ ইং) তারিখে মোহাম্মদপুর শিয়ামসজিদ র‌্যাব-২ ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু র‌্যাব অফিস ও থানা পুলিশ জাকির হোসেনকে গ্রেফতারের ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে তখন অস্বীকৃতি জানায়। সেই থেকে আজ অবধি তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

হাফেজ জাকির হোসেন ২০০৯ সালে উচ্চশিক্ষা ও ভালো কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় পারিবারিক প্রয়োজনে সুদূর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। মাত্র দুই বছরে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করার মত অসাধারণ মেধাবী এই শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পেয়ে পাস করেন। ২০০৯ সালে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা এসে ঢাকা কলেজ অব মেডিক্যাল টেকনোলজিতে ডেন্টাল বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন।

নিখোঁজ হাফেজ জাকির হোসেনের সন্ধান দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল রাতে র‌্যাব-২ পরিচয়দানকারী একদল লোক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোন সন্ধান মেলেনি তার। পরিবার, সহপাঠী, সংগঠন সবাই মিলে শত চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। থানায় জিডি, একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, মানবাধিকার কমিশন, র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবি কার্যালয়ে ধরণা দেয়া ইত্যাদি সবই হয়েছে কিন্তু তার সন্ধান মেলেনি।

জাকির হোসেনের বড় ভাই মো. মতিউর রহমান মোহাম্মদপুর থানায় করা জিডিতে (জিডি নং: ৩২৮, ০৪/০৪/১৩) উল্লেখ করেন তার ভাই ০২/০৪/২০১৩ তারিখ রাত ৮.০০ টা সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আনতে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে যাবার জন্য মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে বের হন। বাসা নং – ১৯/৬ টিক্কাপাড়া (৩য় তলা) মোহাম্মদপুর – এই ঠিকানার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। থানায় ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

Comments

comments