দেরি তিন মিনিট,পরীক্ষা দেয়া হলো না অংকনের

ঘড়িতে তখন বাজে প্রায় পৌনে বারোটা। এইচএসসি পরীক্ষার্থী শামির আহমেদ অংকন। দাঁড়িয়ে আছেন কবি নজরুল কলেজের বাইরে। এ কলেজেরই ছাত্র অংকন। কিন্তু পরীক্ষার সময় দেথা গেল অংকন কেন্দ্রের বাইরে।

কথা বলে জানা যায়, তার পরীক্ষা কেন্দ্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, লক্ষ্মীবাজারে। কিন্তু অংকন পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘড়িতে বেজে যায় ১০টা তিন মিনিট। এ সময় আর পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারেননি তিনি।

অংকন আরও জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পনের মিনিট পর পর্যন্ত হলে ঢোকার নিয়ম আছে। আমি মাত্র তিন মিনিট দেরিতে পরীক্ষার পৌঁছেছিলাম। রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিল। নিরুপায় হয়ে আমি পায়ে হেঁটে আসি, যার কারণে দেরি হয়ে যায়।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের গেটে অনেক অনুনয় বিনয় করেও পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারেননি অংকন, শেষে হাল ছেড়ে ছেলেটি ফিরে আসেন নিজ কলেজ কবি নজরুলের গেটে। ততক্ষণে পরীক্ষার একঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে।

সোমবার সারাদেশে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রশ্ন ফাঁসের রবে এবার পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় নিয়ে দারুণ কড়াকড়ি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে। সকাল সাড়ে নয়টার পরেই আর ঢুকতে দেয়া হয়নি কোনো শিক্ষার্থীকে। যার কারণে বিপাকে পড়েন কেন্দ্রে দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীরা।

কয়েকটি কেন্দ্রে যারা নির্দিষ্ট সময়ের পরে পৌঁছেছেন, তাদেরকে প্রথমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নাম-পরিচয় তালিকাভুক্ত করে পরে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার জানান, মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশ ছিল। আমরাও আমাদের কেন্দ্রে সাড়ে নয়টার পরে মূল ফটক বন্ধ করে দেই। তারপরের পনের মিনিট নাম ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখে রাখার শর্তে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেই। দশটার পরে কাউকেই ঢুকতে দেয়া হয়নি।

অংকনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অন্য একজন ছাত্র ছিল যার বাবা মারা গিয়েছিল। তার বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। আজ সকালে সে আমাদের কলেজ থেকে অ্যাডমিট কার্ড নিয়েছে। তার বিষয়ে কেন্দ্রে বলা ছিল। অংকনের বিষয়ে আমরা জানতাম না, ফলে আমাদের করার আর কিছুই ছিল না।

পরীক্ষার্থীদের নির্দেশিত সময়ের কথা মাথায় রেখে ঘর থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেন, সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ।

তিন মিনিট দেরির মাশুল দিতে হবে তাকে একটি পুরো বছরে। তাই অংকন নিজেকে স্বান্তনা দেন, ‘কিছু হয়নি, আবার আগামী বছর পরীক্ষা দিবো!’

Comments

comments