চোখ হারানো ২০জনকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখ হারানো প্রত্যেককে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, ডিসি ও এসপি, ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমুনিটি হেল্থ সেন্টার, ডা. মোহাম্মদ শাহীনসহ ১০ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই রুলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৬ মে নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত।

রোববার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টবেঞ্চ এ রুল জারি করেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।

আদেশের পর আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত যুগান্তরকে বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখ হারানো প্রত্যেককে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ী হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার হাসিব এবং ডাক্তার মোহাম্মদ শাহীনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আদালত আদেশে বলেছেন, আমাদের দেখতে হবে চক্ষু শিবিরগুলো যেন বন্ধ না হয়ে যায়।কারণ এসব চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। আবার আমাদের এটিও দেখতে হবে যেন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

এর আগে ‘চোখ হারানো’ ২০ জনকে এক কোটি করে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত রিট আবেদনটি দায়ের করেন। একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শীর্ষক শিরোনামে ২৯ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমুনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়।

অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। তবে বাসায় ফিরেই ২০ জন রোগীর চোখে ইনফেকশন দেখা দেয়। এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ মার্চ অপারেশনের পর ৬ মার্চ তাদের প্রত্যেককেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। বাড়ি ফিরে ওই দিনই কারও বিকালে, কারও সন্ধ্যায়, কারও রাত থেকে চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা ও পানি ঝরতে শুরু করে। পরদিনই তারা যোগাযোগ করেন ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে। তাদের তখন গুরুত্ব না দিয়ে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে উঠলে ফের তারা ইম্প্যাক্টে যান। সেখান থেকে তখন কয়েকজন রোগীকে স্থানীয় এক চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

স্থানীয় ওই চক্ষু বিশেষজ্ঞ তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। এদের মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে ইম্প্যাক্ট থেকে ১২ মার্চ এক সঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ৫ মার্চের ওই অপারেশনের ফলে এদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়েছে।

Comments

comments