ভারী ব্যাগে নিরানন্দ শৈশব

বিরামহীন পড়াশুনার চাপ আর ভারি ব্যাগের বোঝায় দিন দিন আনন্দহীন হয়ে উঠছে দেশের লাখ লাখ শিশু-কিশোরের শৈশব জীবন। অথচ শিক্ষা নীতিতে বলা আছে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হতে হবে আনন্দময় পরিবেশে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, ভালো ফলের চাহিদার কারণেই বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আর শিক্ষাবিদদের মতে, বাড়িতে নয় বরং শিশুদের পড়ালেখা শেষ করতে হবে স্কুলেই। সাত সকালে ঘুম চোখে স্কুলে যাওয়ার তাড়া আর সঙ্গে নিজের চেয়েও ভারি পেটমোটা ব্যাগ, এ দু’য়ের তাড়নায় নুয়ে পড়ছে স্কুলগামী শিশু-কিশোররা। শিক্ষার্থীদের বহন করা প্রতিটি ব্যাগই যেন এক একটি দুরন্ত জীবনকে পরিশ্রান্ত করে দেয়ার প্রতিচ্ছবি।

তাই হাসি, আনন্দ আর উচ্ছলতা যেন নির্বাসিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে।

শিশুরা বলেন, সাতটি পিরিয়ডের প্রতিটি ক্লাসের দুইটা করা খাতা। একটা বই, মাঝে মাঝে তো শিক্ষকরা বলে তিনটা করে খাতা আনতে। আমরা হাঁটতে পারি না। কাঁধে ব্যথা হয়ে যায় শক্তি থাকে না। কম বই খাতা আনলে ভাল হয়। কিন্তু শিক্ষকরা বকাবকি করে।

ভারী ব্যাগে নিরানন্দ শৈশব

শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য ২টি এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৬টি করে বই নির্ধারণ করা থাকলেও বেসরকারি স্কুলে পড়ানো হচ্ছে ৮ থেকে ১৪টি করে বই। হাইকোর্টের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে, শিশুকে তার নিজের ওজনের সর্বোচ্চ ১০ ভাগের এক ভাগ ওজনের ব্যাগ দেয়া যাবে। অথচ ওজন মাপার মেশিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের শরীরের মোট ওজনের তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত ওজন এক একটি ব্যাগের। এসবের জন্য অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়ী করছেন একে অপরকে।

অভিভাবকরা বলেন, বই খাতার এত ওজন আমাদেরই বহন করতে কষ্ট হয়ে যায়। একটি বাচ্চার যা ওজন ওই ব্যাগের ঠিক একই ওজন হয়।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষা মানেই বই আর ভালো ফলাফল, এ ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মনো বিজ্ঞান ও নির্দেশনা বিভাগের অধ্যাপক এম নাজমুল হক বলেন, শিক্ষা মানে কিন্তু শুধু বই না। এইটা অভিভাবকদের কারণে তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যালয় গুলিও অভিভাবকদের সন্তুষ্ট করার জন্যে এই অবস্থা তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও প্রাক প্রাথমিক স্তরে ভাল ফলাফলের চেয়ে শিশুর মানসিক বিকাশকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। তবে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে শিশুদের ওপর পড়াশোনার চাপ ও কাঁধে বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম কতটুকু মানসিক ভাবে বিকশিত হয়ে উঠবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

Comments

comments