শিক্ষার্থীদের পিকনিকের টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ছাত্রলীগ

ঢাকা: বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পিকনিকের জন্য সংগ্রহ করা টাকা উপাধ্যক্ষের কাছ থেকে নিয়েছেন কলেজ ছাত্র সংসদের দুই নেতা।

কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি জহিরুল ইসলাম স্বপন এবং জিএস আবু তাহের রিমন নিজেদের ছাত্রলীগের কলেজ শাখার শীর্ষ দুই নেতা পরিচয় দেন; যদিও সেখানে অপর দুইজনকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনটির কমিটির রয়েছে।

তাদের নেতৃত্বে কয়েকজন গত বুধবার পিকনিকের জন্য সংগ্রহ করা ২৩ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে গেছে বলে জানান উপাধ্যক্ষ মীর আবদুল জলিল মণ্ডল।

তিনি বলেন, “পিকনিকের জন্য আমার কাছে ১৮ হাজার টাকা ছিল। ছাত্রলীগের স্বপন, রিমনসহ কয়েকজন বুধবার আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছে। এছাড়া আরও ১৫ হাজার টাকা স্টাফদের কাছে ছিল, সেটাও তারা নিয়ে গেছে।”

ঢাকার টিকাটুলিতে অবস্থিত এই কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষ সমাপনী পরীক্ষা হয় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। ওই সময় তাদের কাছ থেকে পিকনিকের চাঁদা সংগ্রহ করা হয় বলে উপাধ্যক্ষ জানান।

তিনি বলেন, কলেজের পিকনিক আয়োজনের জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র প্রতিনিধিদের দিয়ে সাতজনের একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ। সেই কমিটিতে স্বপন ও রিমন ছিলেন।

“কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তোলা অর্থ তারা দুজনে নিয়ে নিল।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আবু তাহের রিমন।

তিনি বলেন, “আমি ছাত্র সংসদের জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রদের টাকা আমার কাছে থাকতেই পারে। আর কোনো ছাত্রের টাকা দরকার হলে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন, আমি দিয়ে দেব। আমরা সবার টাকাই ফেরত দিয়ে দিব।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রত্যেক পরীক্ষার আগে বিভিন্ন অজুহাতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নেয় ছাত্রলীগের নেতারা। আমরা বিপাকে পড়ে টাকা দেই। এবার নিয়েছে পিকনিকের কথা বলে। তবে দুই মাস পর শুনলাম ভাইস প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে জোর করে তারা টাকা নিয়ে গেছে।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষার আগে আটকে আমাদের কাছ থেকে সাতশ টাকা করে নিয়েছে। একেকবার একেক অজুহাতে ৫শ, ৭শ বা ১০০০ টাকা করে নেয় তারা। টাকা না দিলে পরীক্ষা দিতে দেবে না। তাই আমরাও টাকা দেই।”

তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ কলেজের অধ্যক্ষ সালেহা খাতুন।

তিনি বলেন, “ভাই, দেখেন আমরা অসহায়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ আমাদের দুই ভাইস প্রিন্সিপালকে থানায় ডেকে ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে বসিয়ে দিয়েছে। তারা চেষ্টা করেছে কলেজে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”

স্বপন-রিমনের বিরুদ্ধে আগে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশের ওয়ারি জোনের উপ-কমিশনার ফরিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, “এবারের ঘটনায় আমদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমি ছাত্রনেতাদের বলে দিয়েছি, তারা যেন আর এ কাজ না করে।”

এদিকে এ ঘটনার কোনো দায় নিতে নারাজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজাউল।

তিনি বলেন, “তারা ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে থাকলে আমাদের কী করার আছে? আমিও টাকা নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। রোববার ক্যাম্পাসে গিয়ে আলোচনা করব।”

Comments

comments