কান ধরে উঠ-বস না করায় দলীয় কর্মীর নাক ফাটাল ছাত্রলীগ

আহত ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুল ইসলাম

সাইফুল্লাহ হিমেল: ক্যাম্পাসের গাছ থেকে ডাব পাড়ে খাওয়ায় কান ধরে উঠ-বস করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু করতে অস্বীকার করায় দলীয় কর্মীকে নাক ফাটিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের জিয়া হল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম আশরাফুল ইসলাম। তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আশরাফুল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন গ্রুপের কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীর ভাষ্য মতে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশরাফুল তার বন্ধু রুমনকে নিয়ে ক্যাম্পাসের জিয়া হল মোড়ে ডাব গাছ থেকে ডাব পাড়ছিলেন। এ সময় ইংরেজি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইউসুফ ওরফে গাঁজা ইউসুফ অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করেন এবং পরে দেখা করতে বলেন। পর দিনে ইউসুফের রুমে এসেও রুমে না পেয়ে ফিরে যান আশরাফুল ও রুমন। তার পর আর দেখা হয়নি। শনিবার বিকালে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আবির, ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ ও ইউসুফ ওরফে গাঁজা ইউসুফসহ ১০-১২ জন কর্মী রুমনকে কান ধরে ওঠ-বস করতে বলেন। রুমন অস্বীকৃতি জানালে তাকে পেটাতে শুরু করেন আবির-ইউসুফরা।

এ সময় পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন আশরাফুল। তারা আশরাফুলকেও আচমকা মারধর শুরু করেন। নাকে আঘাত করায় আশরাফুলের নাক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়। আক্রমণকারীরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম গ্রুপের কর্মী। ভুক্তভোগী দু’জন সভাপতি গ্রুপের কর্মী। এদিকে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের হাতে সভাপতির কর্মীরা ক্যাম্পাসে নিয়মিত মারধরের স্বীকার হয় বলে জানা যায়।

সাদ্দাম হোসেন হলের সভাপতি গ্রুপের এক নেতা বলেন, ‘সভাপতির গ্রুপ করাটাই আমাদের অপরাধ। সভপতি আমাদের মূল্যায়ন করে না। আমাদের কর্মীরা নিয়মিত মারধরের স্বীকার হচ্ছে তারপরও কোনো প্রতিবাদ করেন না সভাপতি সাহেব। সভাপতি যদি সাধারণ সম্পাদকের পায়ের নিচে থাকতে পছন্দ করে তবে গ্রুপিং রাজনীতি কেন করে? এভাবে কর্মীদের মার খাওয়ানোর কোনো মানে হয় না।’

ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সভাপতির কর্মী এটাই আমার বড় অপরাধ। তাছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সকল শিক্ষার্থীর উপর সভাপতি গ্রুপ না করার জন্য সম্পাদকের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি এজন্য আমাকে মেরেছে। ইবি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রথামিক চিকিৎসা নিয়েছি। আগামীকাল কুষ্টিয়া গিয়ে এক্স রে করব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমি বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি।’

তবে ভুক্তভোগীর দাবি এটি অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। সভাপতি গ্রুপ করায় তারা ঠাণ্ডা মাথায় আমার নাক ফাটিয়েছে।

Comments

comments