আয়মান সাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে একটি অনুষ্ঠান শেষে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর করে।

‘টেন মিনিট স্কুল’এর একটি অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। ছাত্রলীগের এ তান্ডব থেকে বাঁচতে অনুষ্ঠানের অতিথি ও ‘টেন মিনিট স্কুলে’র উদ্যোক্তা আয়মান সাদিক প্রায় এক ঘণ্টা কলেজের অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত কক্ষে অবরুদ্ধও ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় আয়মান সাদিককে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় টেন মিনিট স্কুলের সদস্য রুয়েটের একজন ছাত্রীসহ হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে প্রায় ২০ ছাত্রী আহত হয়েছেন। একজন শিক্ষকেরও হাত কেটে গেছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, সকালে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে কলেজের ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমা বিশ্বই প্রধান অন্তরায়’ শিরোনামে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ‘বার্ষিক কর্মশালার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল। এরপরই ‘টেন মিনিট স্কুলে’র উদ্যোগে ‘এইচএসসি ক্রাশ কোর্স ও মাস্টার কোর্স’-এর আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে প্রায় তিনটা পর্যন্ত চলে। অনুষ্ঠানে নিউ ডিগ্রি কলেজসহ শহরের বিভিন্ন কলেজের প্রায় হাজারো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কলেজের অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির বলেন, অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শিক্ষার্থীরা উপভোগ করেছেন। তিনিও সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর আয়মান সাদিকের সঙ্গে ছেলেমেয়েরা সেলফি তোলার জন্য ভিড় করছিল। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা এসে অভিযোগ করেন যে কলেজের দর্শন বিভাগের একজন শিক্ষক তাঁদের গালি দিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছেন। তাঁর বিচার করতে হবে।’

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘যেভাবে বিচার করলে তোমরা খুশি হবে, আমি সেইভাবে বিচার করব। আমাকে পাঁচটা মিনিট সময় দাও। এ কথায় তারা আশ্বস্ত হয়ে চলে যায়।’

এরপর অধ্যক্ষ আয়মান সাদিককে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে এসে নাশতার ব্যবস্থা করেন। এমন সময় ছাত্রলীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম বাপ্পি ক্যাম্পাসে আসেন। মোবাইলে তিনি অধ্যক্ষের সঙ্গে উত্তেজিত ভাষায় কথা শুরু করেন। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য পাঁচ মিনিট সময় চান। কিন্তু সভাপতি তাঁকে দুই মিনিট সময় দেন। তা ছাড়া কলেজের উন্নয়ন শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

অধ্যক্ষ বলেন, এ কথা শুনে তিনি নিচে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতিকে বুঝিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাঁর কার্যালয়ে সামনের বারান্দায় ঢুকেই তিনি একজন ছাত্রকে থাপ্পড় দিয়ে ফুলের টব ও ডাস্টবিন ভাঙচুর শুরু করেন।

এ সময় কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাইতুল হোসেন তরুণ, ছাত্রলীগের নেতা ইমন, শুভ, সুকান্ত, ফাহিম বখতিয়ার, হাফিজুল ইসলাম ও কয়েকজন বহিরাগতসহ ২০/২৫ জন যুবক ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁরা কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করেন। অধ্যক্ষের টেবিলে সাজানো ক্রেস্ট ছুড়ে ফেলে দেন। আয়মান সাদিককে খুঁজতে থাকেন। এ সময় আয়মান সাদিককে কলেজের অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত কক্ষে দরজা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেখানে গিয়েও তারা দরজায় ধাক্কা ধাক্কি করেন। করিডরে বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণের ছবি সংবলিত একটি ও মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ছবির ব্যানার টাঙানো ছিল। সেগুলোও তারা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেন। অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

অবশ্য রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, অনুষ্ঠান শেষে চা-চক্র চলছিল। এ সময় অনুষ্ঠানের সামনে বসার জায়গা না দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগ নামধারী কিছু ছেলে ফুলের টব ও চেয়ার ভাঙচুর করেছে। কাউকে মারেনি। কলেজের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগও দেওয়া হয়নি।

Comments

comments