কারাগারে নিষ্ঠুরতা: অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা মুহাম্মদ মুরসির

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে কারাগারে ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অত্যন্ত খারাপ অবস্থায়’ আটক রাখা হয়েছে। এজন্য দেশটির স্বৈরশাসক আব্দুল ফাত্তাহ সিসিকে তার ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য দায়ী করা হতে পারে। একদল ব্রিটিশ এমপি ও আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা তার এমন অবস্থা দেখতে পেয়েছেন।

তারা জানতে পারেন যে মুরসিকে দিনে ২৩ ঘন্টা নির্জন প্রকষ্ঠে আটক রাখা হয়। সিমেন্টের মেঝেতে ঘুমাতে হয় এবং গত তিন বছরে তাকে পরিবারের সাথে মাত্র একবার দেখা করতে দেয়া হয়েছিল। এমপি ও আইনজীবীরা বলেন, “আমরা ড. মুরসিকে যে শোচনীয় অবস্থায় আটক দেখতে পেয়েছি তা করা হয়েছে চেইন অব কমান্ডের স্বার্থেই, তাই এ ঘটনার জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসিকে নীতিগতভাবে নির্যাতন চালানোর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হতে পারে।

এমপি ক্রিসপিন ব্লান্টের নেতৃত্বে এমপি ও আইনজীবীদের দলটিকে মুরসির পরিবার লন্ডনভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান আইটিএনের আইনজীবীদের মাধ্যমে তার তার অবস্থা দেখার জন্য নিযুক্ত করে। দলটি তোরা কারাগারে ৬৭ বছর বয়সী মুরসির অবস্থা স্বচক্ষে দেখতে সেখানে যাওয়ার জন্য মিসর সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু মিসর সরকার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। এতে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, নিরপেক্ষ কেউ মুরসির আটক অবস্থা দেখুক মিসর সরকার তা চায় না।

স্করপিন নামে পরিচিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জেলের একজন সাবেক প্রহরী বলেন, “ ২০১২ সালে এ জেলখানাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সেখানে কাউকে বন্দী করা হলে মৃত্যু ছাড়া কোনোভাবে সে সেখান থেকে বের হতে পারবে না।” ব্লান্ট বলেন, “আমরা আশা করছিলাম অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে, কিন্তু সিসি তা চান না। সিসি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হচ্ছেন। অবস্থা পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন তিনি। কিন্তু মনে হচ্ছে, সিসি মুরসি ও অন্যান্য বন্দীর কারাগারের অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিসরে বিভক্তির উপশম করতে আগ্রহী নন।”

তিনি বলেন, “মিসর কর্তৃপক্ষ বন্দী অবস্থায় মুরসির মৃত্যুর সন্দেহাতীত কঠিন পরিস্থিতি এড়াতে চাইলে তাহলে তাদের এই অবহেলার ব্যাপারটির ওপর গুরুত্বে সাথে নজর দিতে হবে, এটি হবে তাদের জন্য একটি সুযোগ।

‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মারাত্মক খারাপ অবস্থা’

মুরসির অবস্থা সম্পর্কে তার পরিবার ও ওয়াকিফহাল অন্যান্য সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটিশ এমপিদের দলটি তার প্রতি সরকারের আচরনকে ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মারাত্মক খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। মিসরীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে এটি নির্যাতন চালানোর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

দলটির রিপোর্টে, বলা হয়, জরুরি ভিত্তিতে মুরসিকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানান হয়, তার স্বাস্থ্যের যে অবস্থা তাতে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়তে বা মারা যেতে পারেন।

Comments

comments