নেশার টাকা না পেয়ে পাবিপ্রবির ৪ শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ

নেশার টাকা না পেয়ে ৪ সাধারণ ছাত্রকে মারপিটের পর আটকে রেখে শিবির কর্মী আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাধারন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ নেশার টাকার কথা অস্বীকার করে পুলিশে দেওয়া ৪ শিক্ষাথীকে শিবির কর্মী বলে দাবী করেছেন। পুলিশে সোপর্দকৃতরা হলেন: বাংলা বিভাগের মাষ্টার্স শেষ বর্ষের সজীব হোসেন, জাকির হোসেন, আরিফ হোসেন ও পদার্থ বিদ্যার হীরা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলার খবর পেয়ে আমরা ক্যাম্পাসে যাই। সেখানে লাইব্রেরী ভবনে ৪ শিক্ষার্থীকে আটক করে রাখার খবর পাই। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিকট ৪ শিক্ষার্থীকে দিলে আমরা তাদের থানায় নিয়ে আসি। তারা শিবিরকর্মী কিনা যাচাই বাছাই চলছে। তবে ছাত্রলীগের কর্মীদের নেশার টাকা চাওয়ার ঘটনায় এই চারজনকে শিবির কর্মী বানানোর বিষয়টি তার জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ওই চার শিক্ষার্থীর একাধিক সহপাঠি দাবী করেন, বেলা ১২ টার দিকে তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে বসে গ্রুপ স্টাডি করছিল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ চৌধূরী আসিফের অনুসারী কয়েকজন মাদকাসক্তরা তাদের নিকট টাকা দাবি করে। তারা টাকা দিতে অস্বীকার করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। ব্যাপক মারপিটের পর লাইব্রেরীর একটি কক্ষে ৩ ঘন্টা তাদের আটকিয়ে রাখে। পরে পুলিশে খবর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শিবির কর্মী আখ্যা দিয়ে তাদের পুলিে সোপর্দ করা হয়। এটি সত্যিই একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা বলেও দাবী করেন তারা।

নাম প্রকাশে একাধিক শিক্ষক দাবী করেন, এরা মূলত শিবির কর্মী নয়, তবে ছাত্রলীগের কর্মীদের কথা না শুনার জন্য শিবির কর্মী হয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়েই সমাধান হতে পারতো, পুলিশের হাতে সাধারন শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়া মোটেই উচিত হয়নি বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আওয়াল কবির জয় বলেন, আমার জানা মতে তারা শিবির কর্মী নয়, সাধারন শিক্ষার্থী। তাদের নিকট নেশার জন্যে টাকা চাওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই।

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান আরিফ ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমরা তো ছাত্রদের পড়াই মাত্র। তবে বাহ্যিক ভাবে দেখে তাা শিবির কর্মী বলে আমাদের কখনো মনে হয়নি। তবে গোপনে কে কি করেন সেটা তো বলা সম্ভব নয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, নেশার টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এরা শিবির কর্মী বলেই আমাদের নিকট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিয়ে আটকে রেখে পরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রোস্তম আলীকে “নেশার টাকা না পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ৪ ছাত্রকে মারপিটের ঘটনায় আপনি নিশ্চিত কিনা তারা শিবিরকর্মী” জানতে চাইলে তিনি অন্য প্রসঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং ছাত্রলীগকে খুশি করতেই চার সাধারন শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে কীনা জানতে চাইলে পরে কথা হবে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

Comments

comments