ভোট ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের আব্দুল মালেক (৪৫) ওই ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি। তিনি গুপ্তবৃন্দাবন গ্রামের নেছার উদ্দিনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে সাগড়দিঘী ইউনিয়নের গুপ্তবৃন্দাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুপ্তবিন্দ্যাবন কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারছিল। এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আব্দুল মালেক প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘাটাইল থনাার ওসি মহিউদ্দিন দাবি করেন, গভীরাতে অস্ত্র নিয়ে একদল দুষ্কৃতিকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার রুমে ঢুকে ব্যালট পেপার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছিল। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসীও তাদের ধাওয়া করে। পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, রাতে একদল দুষ্কৃতিকারী ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে আসলে পুলিশ প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে কতো রাউন্ড গুলি করা হয়েছে তার হিসেব তিনি দেননি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের এহেন বক্তব্যে স্বভাবতই মনে হতে পারে যুবদল নেতা আব্দুল মালেক ভোট ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে ভিন্ন। ভোট শুরু হওয়ার বহু আগেই ভোররাতে ভোট ডাকাতি করতে যায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। আর সে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গেলে ভোটকেন্দ্রেই নির্মমভাবে গুলি করা হয় ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আব্দুল মালেককে। এসময় হট্টগোল তৈরী হলে পুলিশ এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে যুবদল নেতা আব্দুল মালেকের লাশ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, টাঙ্গাইল জেলাধীন ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউপি নির্বাচনে নির্বাচনের আগের রাতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুপ্তবিন্দ্যাবন কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারছিল। এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আব্দুল মালেক প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

Comments

comments