তালাবদ্ধ ঘরে মায়ের লাশের পাশে কাঁদছিল শিশুটি

তালাবদ্ধ ঘরে মায়ের লাশের পাশে কাঁদছিল শিশুটি

শিশুর কান্নার আওয়াজ আসছিল তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে। কিন্তু শিশুটিকে তালাবদ্ধ ঘরে রেখে বাসার সবাই কোথায় গেছেন- বুঝতে পারছিলেন না প্রতিবেশীরা। বাড়তে থাকে কান্নার তীব্রতা। কৌতূহল নিয়ে কেউ কেউ এগিয়ে যান ঘরের দিকে। দুর্গন্ধ ভেসে আসে নাকে। সন্দেহজনক মনে হয় ব্যাপারটা। থানায় খবর দেন তারা।

ঘটনাস্থলে এসে মায়ের পচন ধরা লাশ পায় পুলিশ, পাশে ক্রন্দনরত শিশু। উপস্থিত পুলিশ সদস্যসহ প্রতিবেশী ও সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে পড়েন এ দৃশ্য দেখে।

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কোতালেরবাগ বৌ-বাজার এলাকার একটি টিনশেড বাড়ি থেকে গৃহবধূ রিমা আক্তারের (২২) পচন ধরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় খাটের ওপর লাশের পাশে বসে কাঁদছিল তার দেড় বছরের শিশু নাহিদ।

ওই বাড়ির মালিক প্রয়াত আছিলা সরকার। তার ছোট ছেলে আল আমিনের স্ত্রী রিমা আক্তার। গত সোমবার ৩ দিন আগে রিমাকে ছেলে কোলে বাসার সামনে দেখেছিলেন প্রতিবেশীরা।

পুলিশের ধারণা- রিমাকে হত্যার পর বাসার বাইরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় তার স্বামী আল আমিন। রিমা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী নির্যাতন সইতে না পেরে চলে যান। দুই বছর আগে রিমাকে বিয়ে করে আল আমিন। সে ওই এলাকার পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে তার বড় ভাই বাবুকে মাদকসহ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে জেলহাজতে।

নিহত রিমার প্রতিবেশী নাসিমা বেগম বলেন, ‘গত সোমবার সর্বশেষ রিমাকে সন্তান কোলে তাদের বাসার দরজায় দেখতে পাই। এর পর থেকে আর দেখা যায়নি তাকে। আল আমিন মাদক ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের সঙ্গে বেশি মিশতাম না। বুধবার দুপুরে আল আমিনের ঘর থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ পাই। অনেকক্ষণ যাবৎ শিশুটি কেঁদেই চলেছে। এক পর্যায়ে তাদের ঘরের সামনে গিয়ে দেখি ঘর তালাবদ্ধ। কিন্তু ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসে, সঙ্গে পচা গন্ধও। তখন অন্যান্য প্রতিবেশীকে বিষয়টি জানালে তারা থানায় খবর দেন। পুলিশ বিকেলে এসে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখে, রিমার লাশের পাশে বসে কাঁদছে শিশু নাহিদ। এ ঘটনায় আমরা হতবাক হয়ে গেছি। কী থেকে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না!’

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই অটল দাস বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। মায়ের পচন ধরা লাশের পাশে বসে শিশুটি কাঁদছিল। ভয় আর তৃষ্ণায় কাতর ছিল শিশুটি। আমরা তাকে উদ্ধার করে আপাতত এক প্রতিবেশীর কাছে দিয়েছি কিছু খাওয়ানোর জন্য।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শাহজালাল বলেন, পচন ধরে গেছে লাশটিতে। কান, নাক, চোখ ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে। তবে কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের না পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী আল আমিনই রিমার সম্ভাব্য খুনি।

Comments

comments