ইবিতে শেখ মুজিবের ম্যুরালে ছাত্রলীগের ইট-পাটকেল!

শেখ মুজিবের ম্যুরালে ইট-পাটকেল ছুড়ছে ইবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা

মাদক সেবীকে রক্ষা ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসের সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যাক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবসের খাবার না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অফিসে থাকা রেজিস্ট্রার খাতা, ওয়াইফাইয়ের রাউটারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

ওই ঘটনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালেয়ের লালন শাহ হলে অভিযান চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় হলের দক্ষিন ব্লক থেকে ১০ বোতল ফেনসিডিল ও কয়েকটি চাপাতিসহ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রপের কর্মী আকাশ, বহিরাগত দানিয়েলকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় সেখান থেকে রফিকুল নামের আরেক বহিরাগত পালিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা আটককৃতদের এবং চাপাতি ও ফেনসিডিল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছ থেকে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা আকাশকে ছিনিয়ে নিয়ে আসে। এরপর আটককৃত বহিরাগত দানিয়েলকে ইবি থানায় সোপর্দ করা হয়।

ছাত্রলীগের বহিরাগত ক্যাডারের কক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত মাদক ও দেশীয় অস্ত্র

এই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হল এবং লালন শাহ হলের সামনে অবস্থান নিতে থাকে ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতা কর্মীরা। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দুই হলের নেতা কর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে। এসময় তারা ‘প্রক্টরের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে,’ ‘প্রক্টরের চামড়া তুলে নিব আমরা’, ‘প্রক্টরের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’ সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।

এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করতে করতে প্রশাসন ভবনের দিকে যায়। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি ও মেইন গেট এলাকায় গিয়ে টিএসসিসি’র সিসিক্যামেরা ও জানালার গ্লাস, মেইন গেটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক জলের ফেয়ারাসহ বিভিন্ন ফ্রেম ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এরপর তারা মেইন গেটের কাছে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ এ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক কক্টেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Comments

comments