ঢাবিতে ছাত্রলীগের হাতে আবারও নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী

নিজের রাজনীতি না করায় দুই ছাত্রকে নিজ কক্ষে হল ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও এক বহিরাগত নিয়ে মারধর ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফকীর রাসেলের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার হওয়া বেলায়েত হোসেন রকি ও ফয়সাল উদ্দীন হলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। গত শুক্রবার দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা ।

নিয়মিত প্রোগ্রাম, গেস্টরুমে (রাজনীতিতে) না যাওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুদের সাথে ভালো সম্পর্ককে ‘কোরাম’ আখ্যা দিয়ে তাদেরকে মারা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ছাত্ররা।

উল্লেখ্য, একই অভিযোগে হলের আরেক ছাত্রকেও মারধরের হুমকি দিয়েছেন নেতা কর্মীরা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন রকির সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে হল শাখা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ‘শামছের তাব্রিজ প্রান্ত’ ফোন দিয়ে তাকে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদের রুমে যেতে বলেন। সেখানে সে তার বন্ধু ফয়সাল উদ্দিনকে মারধর করতে দেখতে পান। এরপর তাকে রাজনীতি না করার বিষয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করা হয়। হল ছাত্রলীগ সভাপতি এসময় তার সামনেই চেয়ারে বসা ছিলেন।

রকি বলেন, ‘প্রথমে প্রান্ত এসে আমাকে কিল-ঘুষি দেন। পরে হল শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তামীম, আরিফুল ইসলাম ও শেখ আরিফিন ইমরোজ প্রথমে হাত ও পরে স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। কোমড়, মাজা ও পায়ের তালুতে স্টাম্প দিয়ে মেরেছে তারা।’

হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাড়াও মারধরে অংশ নেয় হলে অবস্থানকারী এক বহিরাগত ছাত্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় এক বছর যাবত হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছে সে। অবৈধভাবে হলে থাকা এই ছাত্র ‘নীরব’ কাজি নজরুল ইসলাম কলেজে পড়ালেখা করে। ফকীর রাসেল আহমেদের ক্ষমতা বলেই হলে থাকেন তিনি। কিন্তু হল সভাপতি বলেছেন নীরব নামের কাউকে তিনি চেনেন না।

আক্ষেপ করে আহত ঐ ছাত্র আরও বলেন, ‘মারার সময় তাঁরা বারবার বলছিলেন, তুই কুমিল্লার পোলাপাইন নিয়ে কোরাম করিস। এ সময় হল সভাপতির এক বন্ধু আমাকে ও ফয়সালকে আরো বেশি করে মারার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। তখন তারা মারধরের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।

মারধরের পর আমার বন্ধুরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে ইনজেকশন দেই ও এক্স-রে করাই। পায়ের তালুতে স্টাম্প দিয়ে মারার ব্যাথা আছে এখনও। ডাক্তার সাতদিন বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।’

রুমে নিয়ে মারধরের সময় তিনি ‘রুমে’ ছিলেন না বলে জানিয়েছেন হল ছাত্রলীগ সভাপতি ফকীর রাসেল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘রুমে এনে মারধরের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে কিছু পেলে ব্যাবস্থা নেব।’ তবে আহত রকিকে দেখতে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হল প্রাধক্ষ্য শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু শুনি নি। কেউ অভিযোগ করলে ব্যাবস্থা নেব।’

Comments

comments