সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

টেবিলের ওপর ল্যাপটপ। রয়েছে মুঠোফোন ও ফাইলের স্তূপ। প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর করার আগে টাকা গুনে ড্রয়ারে রাখেন তিনি। সরকারি কক্ষে বসেই ঘুষের কারবার চালাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডলের ঘুষ নেয়ার এমন একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ওই ভিডিওটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। মোবাইলে ভিডিওটি আপলোড করার পর অনেকেই নানা মন্তব্য ছুড়ছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডলের টেবিলের ওপর ফাইলের স্তূপ। প্রতিটি ফাইল স্বাক্ষর করার আগে তিনি ঘুষ নিচ্ছেন। পাশ থেকে একজন ফাইল এগিয়ে দিচ্ছেন। আর প্রতিটি ফাইলের সঙ্গে টাকা নিয়ে ড্রয়ারে রাখছেন তিনি।

এদিকে, সাব-রেজিস্ট্রার ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না- এমন অভিযোগে মঙ্গলবার থেকে আড়াইহাজারে দেড় শতাধিক দলিল লেখক একযোগে কর্মবিরতি পালন করছে। তারা বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রারের প্রত্যাহার এবং একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রারের পোস্টিং চেয়ে বিক্ষোভ করেন।

দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ভূইয়া জানান, বন্দর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডলকে আড়াইহাজার উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি এখানে যোগ দেয়ার পর থেকেই প্রতিটি দলিলের জন্য মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবি করেন দলিল লেখকদের কাছ থেকে। তার দাবিকৃত ঘুষ না দিতে পারলে কারো দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। তিনি সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দলিল প্রতি আদায় করেন। চাহিদা মত ঘুষ না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক মন্ডল দলিল ছুড়ে ফেলে দেন এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করে থাকেন। এতে জমি কেনা বেচায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দলিল লেখকদের প্রতিনিয়িত বাতবিতণ্ডা হচ্ছে। সপ্তাহে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অফিস করার কথা থাকলেও প্রায়ই অফিসে আসেন না তিনি।

Comments

comments