আসামি ধরতে গিয়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের খুড়ারগাঁতী গ্রামের দিনমজুর রাজ-মিস্ত্রী খাইরুল ইসলামের নামে কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই ধরতে যায় পুলিশ। এসময় তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখা খাতুন বাধা দিলে তার পেটে লাথি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ সদর থানার এস.আই গোলাম মোস্তফা ও এ.এস.আই কুতুবের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার (২১ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের খুড়ারগাঁতী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা নির্যাতিত ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখা খাতুনকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে রেখা খাতুন হাসপাতালের ২য় তলার ২নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায, বাগবাটি ইউনিয়নের খুড়ারগাঁতী গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন ও আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের পানিয়াবাড়ী গ্রামের আসতাহারের ছেলে গোলাম মওলার সাথে বিরোধ ছিলো। এরই জের ধরে গত বুধবার দুপুরে খুড়ারগাঁতী গ্রামে সিরাজগঞ্জ সদর থানার এস.আই গোলাম মোস্তফা ও এ.এস.আই কুতুব এর পক্ষে ১০/১২ জন পুলিশের কনস্টেবল খাইরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে।

এসময় এস.আই গোলাম মোস্তফা বাড়ির ভিতরের সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। সবাই বাহিরে গেলে রাজ মিস্ত্রী খাইরুল ইসলামের হাতে হ্যাণ্ডক্যাপ লাগানোর চেষ্টা করলে তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখা খাতুন বাধা দিলে পুলিশ তার পেটে লাথি ও পায়ের তালু ও বিভিন্নস্থানে লাঠি পেটা করে খাইরুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে সাংবাদিকরা হাসপাতালে গেলে রেখা খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের কথা বলেন। এসময় চিকিৎসারত এক সিনিয়র নার্স বলেন, বর্তমানে রেখার ব্লিল্ডিং হচ্ছে। এখনো আশঙ্কা মুক্ত না।

এ ব্যাপারে সদর থানার এস.আই গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান, খাইরুল ইসলামকে ধরার সময় তার স্ত্রী বাধা দিলে একটু ধস্তা-ধস্তি হয়। এর বেশি আমি বলতে পারবো না ওসি সাহেব সব জানেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দাউদ জানান, আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ পাঠিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Comments

comments