দুটি চকলেট চুরির অভিযোগে অনাথ শিশুকে মেরে অজ্ঞান

নির্যাতনের শিকার শিশু রাজিবকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবু আলম, সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন শাহিন খান, সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক নায়লা আক্তার তন্নি। ছবি : এনটিভি

দুটি মাত্র চকলেট চুরির অভিযোগে বরগুনার সরকারি শিশু পরিবারের আট বছর বয়সী এক অনাথ শিশুকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে এক দোকানি। নির্যাতনের যন্ত্রণায় ঘটনাস্থলেই চেতনা হারানোর পাশাপাশি পায়খানা-প্রস্রাব করে দেয় শিশুটি।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার স্টেডিয়াম বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গুরুতর আহত শিশুটির নাম রাজিব। রাজিব বরগুনা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। রাজিবের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না উইনিয়নের লাকুরতলা এলাকায়। আর এ ঘটনায় অভিযুক্ত দোকানি মো. জসিমের (৩২) বাড়ি বরগুনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে।

জসিম স্টেডিয়াম বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে ডিপার্টমেন্টল স্টোরের ব্যবসা করে আসছিলেন। শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় জসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনার খবর শুনে রাজিবকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবু আলম, সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন শাহিন খান, সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক নায়লা আক্তার তন্নি প্রমুখ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুটি চকলেট চুরির অভিযোগ এনে জসিম তাঁর দোকানের সামনে রাজিবকে ধরে কিল ঘুষি ও লাথি মারা শুরু করলে রাজিব ডাক-চিৎকার শুরু করে। পরে উপস্থিত লোকজন রাজিবকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন জসিম। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ে রাজিব। পাশাপাশি পায়খানা-প্রস্রাব করে দেয় শিশুটি। পরে স্থানীয় লোকজন রাজিবকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

রাজিবের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মো. সোহরাব উদ্দীন জানান, রাজিবের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। রাজিবকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বরগুনার সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক নায়লা আক্তার তন্নি বলেন, রাজিবকে অমানুষিক মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আর রাজিবের যথাযথ ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবু আলম বলেন, রাজিবের বিষয়ে সর্বদা খোঁজ রাখছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। রাজিবের যথাযথ চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজিবের পাশে বরগুনা জেলা প্রশাসন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনা শোনার সাথে সাথে জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

Comments

comments