আবারও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা!

  • ২০১৬ সালে ছিল সিঙ্গেল বার্নার ৬০০ এবং ডাবল বার্নার ৬৫০
  • ২০১৭ সালের পহেলা মার্চ থেকে একলাফে হয় ৭৫০ এবং ৮০০ টাকা

এবার হতে যাচ্ছে-

  • সিঙ্গেল বার্নার চুলার জন্য ৯০০ টাকা
  • ডাবল বার্নার চুলার জন্য ৯৫০ টাকা

সরকার আবারও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে যথারীতি অর্থমন্ত্রীকেই দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকটি উপলক্ষে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকার নাকি গ্যাসের জন্য ভর্তুকি দিয়ে আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না! এজন্যই নিতান্ত বাধ্য হয়ে গ্যাসের দাম বাড়াতে হচ্ছে। জনাব মুহিত প্রসঙ্গক্রমে এলএনজি বা তরলিকৃত গ্যাস আমদানিতে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার যুক্তি তুলে ধরেছেন।

এলএনজির বেড়ে যাওয়া মূল্য এবং দেশের ভেতরে ভর্তুকির মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যেই গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি অবশ্য ঠিক কোন মাস থেকে কত টাকা বাড়ানো হবে সে বিষয়ে প্রশ্নসাপেক্ষ নীরবতা অবলম্বন করেছেন।
অন্যদিকে তথ্যাভিজ্ঞরা মনে করছেন, সত্যিই বাড়ানো হলে সিঙ্গেল বার্নার বা একমুখী চুলার জন্য ৯০০ টাকা এবং ডাবল বার্নার বা দ্বিমুখী চুলার জন্য ৯৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হতে পারে। তথ্যাভিজ্ঞদের অনেকে আরো বেশি পরিমাণের বিষয়েও অনুমান করছেন।

এমন ধারণা ও অনুমানের কারণ, দুটি চুলার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে হারে অর্থাৎ যথাক্রমে ৭৫০ এবং ৮০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল গত বছর ২০১৭ সালের পহেলা মার্চ থেকে। তার আগে পর্যন্ত দিতে হতো যথাক্রমে ৬০০ এবং ৬৫০ টাকা। অর্থাৎ সেবার এক দফাতেই ১৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। কথা আরো আছে। এই দাম বাড়ানোর সময় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, ২০১৭ সালেরই জুন থেকে গ্যাসের দাম আরেক দফা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৯০০ এবং ৯৫০ টাকা ধার্য করা হবে।

দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রীট করেছিলেন একজন নাগরিক। মাননীয় বিচারপতিরা দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়ার ফলে বিইআরসিকে পিছু হঠতে হয়েছিল। মাঝখান দিয়ে এক দফায় ১৫০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কিন্তু ঠিকই কার্যকর করেছিল সরকার। জনগণের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপানো হয়েছিল মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে।

Comments

comments