আন্দোলনকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর টার্গেট

জসিম উদ্দিন

প্রেস ক্লাবের ভেতর এক রাজনৈতিক নেতাকে সাদা পোশাকের পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই গ্রেফতার অভিযান হলিউডের মারদাঙ্গা ছবির রিহার্সেলের মতো হয়েছে। পুলিশের টার্গেট করা রাজনৈতিক নেতা নিজে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। অন্য দিকে পুলিশ ইঁদুর বিড়ালের মতো কাণ্ড ঘটাল। টানাহেঁচড়ার মধ্যে তার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে সে প্রায় উলঙ্গ হয়ে যায়। বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুলের করুণ চাহনিটি সিনেমার নিগৃহীত মানুষের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। সে চাহনি আক্রমণকারী ডিবি পুলিশের মন গলাতে পারেনি।

সংসদে না থাকলেও কার্যত এ দলটি জনসমর্থনের সুবাদে বাংলাদেশের ক্ষমতার অংশ। এখন ক্ষমতায় না থাকলেও সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করেছে বিএনপি। তারা আবারো সামনে ক্ষমতায় আসবে না, এমনটি কে বলতে পারে। তখন এরাই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠিত দলের রাজনৈতিক নেতানেত্রীর ওপর পুলিশ যেভাবে চড়াও হয়েছে তাতে অনুমান করা যায়, যারা কোনো ক্ষমতা রাখে না বা ভবিষ্যতে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না তাদের প্রতি পুলিশ কী আচরণ করছেন। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সব চোখ একসাথে তাদের কর্মসূচিতে নিবদ্ধ থাকে। এ অবস্থায় কোনো ঘটনাই মিডিয়ার চোখ এড়ায় না; কিন্তু সাধারণ মানুষ, যারা কখনো কারো বিষয় হয়ে উঠতে পারেনি, তাদের কী অবস্থা। তারা কখনো ক্ষমতার অংশ হয়ে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেবেন এমন ক্ষীণ সম্ভাবনাও নেই। আর তাদের ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ সেভাবে নেই যে, তাদের ওপর তাদের ক্যামেরার ফ্লাশ ওপেন করে রাখবে।

রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর পুলিশের আক্রমণাত্মক অবস্থান একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। সাধারণত সিনিয়র নেতাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন লাঞ্ছনা অপমান মামলা নিয়ে পেরেশানি করা হচ্ছে। অন্য দিকে যারা অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজপথে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের ওপর চালানো হচ্ছে স্টিমরোলার। এই মানের নেতারা সাধারণত পরিচিত নয়; তাদের ওপর গুরুতর নির্যাতন চালানো কিংবা তারা হত্যার শিকার হলেও আড়ালে থেকে যাবে। রিমান্ডের পর ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যু ঠিক এমন কোনো ঘটনা কিনা বুঝে নিতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি ও তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির। ৬ মার্চ বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে গ্রেফতার হন। ওই দিন শাহবাগ থানায় আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ। আসামিদের কাছে সাতটি বাঁশের লাঠি, ইটের ভাঙা টুকরো ছ’টি ও ২৫টি কাচের টুকরো পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। গুরুতর অপরাধী হিসেবে জাকিরের তিন দিন রিমান্ড চাওয়া হয়। তার বোনের বক্তব্য হচ্ছে, ‘তারে তিন দিনের রিমান্ডে নিলো, এরপর দুই দিনও টিকলা না আমার ভাই।’

রাজপথের একজন রাজনৈতিক কর্মীর এ ধরনের শর্টকাট মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে সে ধরনের জোরালো কোনো প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিবাদ ওঠেনি। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকা দক্ষিণের একটি দল। রিমান্ড শেষে আদালতে উপস্থিত হলে আদালত অতটা সদয় হননি যে, তাকে জামিন দেবেন। কারাগারে পাঠালে সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জাকির। কারা হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যালে উপস্থিত হয়ে আর বেশিক্ষণ তিনি ছিলেন না। নিহত জাকিরের চাচা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, আমার ভাতিজাকে টর্চার করে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, সে আমাকে আদালতে বলেছিল, আমি মনে হয় আর বাঁচব না। এ ছিল আমার সাথে তার শেষ কথা। আদালত নির্যাতিতদের পক্ষে দাঁড়াতে পারছে না। হয়তোবা আদালত অনুমান করতে পারেনি কতটা নির্যাতন করা হয়েছে। সেজন্য ভাবা যায়নি জামিন পেতে পারে এই আসামি।

বিরোধীদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হয়রানি কতটা বেড়েছে এ ঘটনার আরো বিবরণে তা বোঝা যায়। জাকিরের ওই চাচা আরো বলেন, মিলনকে কোথায় রাখা হয়েছে খোঁজার জন্য আমি শাহবাগ থানায় গিয়েছি। সেখানে ডিউটি অফিসার ও এই মামলার কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, মিলনের বিষয় তার কিছু জানা নেই। থানায় এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তার সাথে দেখা করতে না পেরে আমি ডিবি কার্যালয়ে যাই। সেখান থেকে আমাকে বলা হয়, তাদের ৫০টির বেশি টিম আছে। কোন টিম মিলনকে আটক করেছে সেটা জানেন না।

থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যিনি জাকিরের ওই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোদ তিনি জাকিরের ব্যাপারে কিছু জানাতে পারলেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতা আদৌ আছে কিনা বোঝা গেল না। না, ব্যাপারটি এমন দাঁড়িয়েছে সরকারবিরোধীদের ওপর থেকে নাগরিক অধিকার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বাস্তবে পার্শ্ববর্তী দেশের রোহিঙ্গা বঞ্চনার সাথে এর পার্থক্য কোথায়। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জাকিরের চাচার প্রতি যে বক্তব্য রাখা হয়েছে সেটা দায়িত্বশীলতার কোন পর্যায়ে পড়ে তা নিশ্চয়ই জনগণের জানতে ইচ্ছা করবে।

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেআইনি কর্মকাণ্ড এই সরকারের দুই মেয়াদে বেপরোয়াভাবে দেখা গেছে। প্রথম যখন এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড শুরু হয় সুশীলসমাজ নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারীরা নিশ্চুপ ছিল। তাদের অনেকের মতে, সেটা ছিল ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ গোষ্ঠীকে দমন। সংবাদমাধ্যমও অনেক ক্ষেত্রে ওইসব ঘটনায় হাওয়া দিয়েছে। নাশকতা জঙ্গি দমনের নামে সবাইকে দমন করে দেয়া হয়েছে। তবে এখন সংবাদ ক্ষীণকণ্ঠ হলেও আওয়াজ তুলতে চাইছে। তবে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন এর প্রতিকার পাওয়া কঠিন। সরকার চাইছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করবে। আগে যারা এমন কর্মকাণ্ডে হওয়া দিয়েছেন তারা আইনের ঢালটি আবার সামনে প্রদর্শন করার চেষ্টা করছেন।

এর কারণ হচ্ছে প্রথমে দমন করা হয়েছে সরকারের বিরোধী প্রান্তিক গোষ্ঠীকে। এরপর দমন হয়েছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে। এরপরের কাতারে নিশ্চয়ই সংবাদমাধ্যম ও সুশীলসমাজ টার্গেট হবেন। এর বিপদটা সবাই বুঝে গেছেন। বড় বড় গাছগুলো যখন গুঁড়িয়ে গেছে, এখন সুশীলসমাজ ও সংবাদমাধ্যম কি পারবে সরকারের বেরিয়ে পড়া ফ্রাঙ্কেনস্টাইনকে থলেতে আটক করতে?

প্রেস ক্লাবে ডিবির লোকদের সিভিল ড্রেসে ফিল্মি আটক অভিযান নিয়ে সংবাদপত্রে নিবন্ধ লেখা হয়েছে। একটি নিবন্ধে ওই অভিযান সুপ্রিম কোর্টের রায়ের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে জোরালো যুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্টের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা তার পরিচয় প্রকাশ করবেন এবং যদি দাবি করা হয়, তাহলে গ্রেফতার ব্যক্তি বা গ্রেফতারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র প্রদর্শন করবেন।’ ডিবির প্রেস ক্লাব অভিযান অন্য আর দশটি অভিযানের মতো ‘স্বাভাবিক’ ছিল। তারা যেভাবে সিভিল পোশাকে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন তেমনি করেছেন। একটা পার্থক্য রয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে উন্মুক্ত পৃথিবীতে সবার সামনে। প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে।

জাকিরের আটক রিমান্ডে নির্যাতন এবং তার মারা যাওয়ার ব্যাপারটি আরো ভয়াবহ। এ ধরনের আরো বহু ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটেছে। ঠিক এ সময় এভাবে একজন তরুণ লড়াকু রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর মধ্যে কী বার্তা রয়েছে? রাজপথে রাজনৈতিক আন্দোলনে যারা শরিক হতে উৎসাহী তাদের প্রতি কী সতর্কতা সঙ্কেত দেয়া হলো? যারা আগ্রহভরে আন্দোলন করতে আসবে তাদের করুণ পরিণতি ঘটবে, সরকার কি এমনটা বোঝাতে চাইছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সত্যিই যদি সরকারের পক্ষ হয়ে এই অ্যাসাইন কাভার করে তাহলে সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভবিষ্যৎ কী? এ প্রশ্নগুলোর এখনই সমাধান হওয়া উচিত।

সাধারণ মানুষ পুলিশের জন্য একটি ব্লাঙ্ক চেক। যখন খুশি তারা এটি ভেঙে খেতে পারবে। আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হলে পুলিশ গণহারে এদের ধরে নিয়ে যায়। পুলিশে ধরলে একটা ফরমালিটি তখন দাঁড়িয়ে যায়। এখানে পুলিশের ঘটে বাণিজ্যের একটি সুযোগ। শুধু পুলিশ নয়, ক্ষমতাসীন দলের লোকদের কাছে তারা লোভনীয় হয়ে উঠছে। পত্রিকা খবর দিয়েছে, ‘আওয়ামী নেতার অপহরণ চক্র’। বাবা সেলিম মোল্লা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ছেলে রাজিবুল হাসান ওরফে রাজিব একই উপজেলার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বাপ বেটা দুইজনে মিলে গড়ে তুলেছে একটি অপহরণ চক্র। পত্রিকাটি লিখেছে, ওই চক্রের অন্য সদস্যরাও আওয়ামী লীগ ও এর অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের সদস্য।

এই চক্রের সদস্যরা ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নির্যাতন করে স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। শুক্রবার সকালে ফার্মগেট এলাকা থেকে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একজন ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জে গিয়ে দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের না ছেড়ে আরো অর্থ আদায়ের জন্য চাপ দেয় তারা। এই সূত্রে র‌্যাবের হাতে এই চক্র ধরা পড়ে। একটি উপজেলার নেতৃত্বের আসনে সরকারি দলের প্রতিষ্ঠিত নেতা হয়ে বাবা ছেলে মিলে সেটাকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ে ব্যবহার করছে। এই চক্র হয়তো কাকতালীয়ভাবে ধরা পড়েছে। তবে এ ধরনের বেশির ভাগ ঘটনা চোখের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। এমন অপহরণ ও চাঁদাবাজির অসংখ্য ঘটনার কোনো দিশা পায় না পুলিশ। ক্ষমতার ব্যবহারকারী এই অপরাধী চক্র পুলিশ প্রশাসনের সাথে একটি আতাত গড়ে তোলে। একদিকে সরকারি দলের সরাসরি আশ্রয়ে তারা থাকে, অন্য দিকে পুলিশের সাথেও তাদের হট কানেকশন। ফলে অপরাধ ঘটে কিন্তু এসব অপরাধের হোতারা থেকে যায় চোখের আড়ালে।

প্রায়ই অভিযোগ উঠছে পুলিশ নানাভাবে অর্থ আদায়ের জন্য হয়রানি করছে। সরকারের বিরোধী বলে চিহ্নিত করে গোপনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ক্রসফায়ার এনকাউন্টার এসব নামে খবর প্রকাশ হয়। অনেক সময় পরিত্যক্ত লাশ পাওয়া যায়। আবারো অনেককে চিরদিনের জন্য আর পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের প্রত্যেকটি ঘটনায় নিকটাত্মীয়রা সাদা পোশাকে পুলিশের বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

সরকারি বাহিনীর পরিচয় না দিলে কোনোভাবে নাগরিকদের এভাবে উঠিয়ে আনা সম্ভব হতো না। বেআইনি কোনো সংস্থা হলে বিভিন্ন জায়গায় জনতা একত্রিত হয়ে তাদের প্রতিরোধ করার সাহস ও শক্তি পেত। পুলিশ প্রশাসনের পরিচয় থাকায় স্থানীয় জনতা এমন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে পারে না। অভিযানের পর এর দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করে না। মধ্যরাতে অভিযান চালানো সেই বিশেষ শাখার পুলিশদের খুঁজে আর পাওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে বছরের পর বছর বিনা প্রতিবাদে ঘটে চলেছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে না পুলিশ
বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য নিজেদের বাহিনীর লোকদের কৃত কর্মকাণ্ডের সাফাই গাওয়া ছাড়া অন্য কিছু থাকে না। প্রেস ক্লাবে ডিবির লোকদের ওই ফিল্মি ঘটনার পর পুলিশ প্রধান আইজিপি সাংবাদিকদের কাছে সাফাই গাইলেন। জনজীবনে হুমকি থাকে এমন ছাড়া রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। রোববার বিকেলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ত (এপিবিএন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি বলেন, যেসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হয়, সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকে। তবে পুলিশের উপস্থিতি মানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা নয়। কোন কোন অনুষ্ঠানে পুলিশ বাধা দেয় সেটা দেখতে হবে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে, জনজীবনে হুমকি, মানুষ ও জানমালের ক্ষতি করে এমন কর্মসূচি ছাড়া স্বাভাবিক কোনো কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়নি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতর প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে মহড়া দিতে দেখা গেছে। তারা পুলিশ সদস্য কিনা জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, মহড়া নয় সেখানে প্রয়োজন থাকায় পুলিশ সদস্যরা বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। কাউকে গ্রেফতার করতে কিংবা অভিযানের প্রয়োজনে হয়তো অস্ত্র প্রদর্শন করতে হয়েছে।

প্রেস ক্লাবের ভেতর একজনকেও পোশাকে দেখা যায়নি। এটা পুলিশ প্রবিধান অনুমিত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রবিধানে অভিযানে গিয়ে সাদা পোশাকে অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।’

[email protected]

Comments

comments