অবৈধ অস্ত্রের দাপটে প্রাণ ঝরছে নিরীহদের

আতিকুর রহমান তমাল

দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে নিহত বা আহত- সারাদেশে এমন ঘটনা ঘটছে অহরহই। সব শেষ শুক্রবার ঘটলো রাজধানীর রামপুরায়। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ অস্ত্রের চালান ও ব্যবহার বন্ধ না হওয়ায় সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে। একই কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না নিরপরাধ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিও।

সাবেকুন নাহার সনিকে অনেকেই ভুলে গেছেন নিশ্চয়ই। সেই সনি; যিনি লিখেছিলেন- এই আমি, খুব একা।

১৬ বছর আগে দরপত্র জমা নিয়ে ছাত্রদলের দু’পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে চিরদিনের জন্য একা হয়ে যান বুয়েট শিক্ষার্থী- সনি। সনির মতো একই পরিণতি ঘটে ২০ মাস বয়সী নওশীনের জীবনেও।

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদার দাবিতে এলাকার মাস্তানরা যখন এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ছিলো তখন ঘটনাস্থলে দুর্ভাগ্যক্রমে হাজির হন নওশীনের বাবা। গুলি এসে লাগে বাবার কোলে থাকা নওশীনের ছোট্ট মাথায়। সেই শোক প্রকাশে এখনও ভাষা খুঁজে পান না- মা।

বিবাদমান দু’গ্রুপের সংঘর্ষের কারণে পথ চলতি মানুষতো বটেই ঘরের ভেতর এমন কি মাতৃগর্ভেও নিরাপদে নেই মানুষ। মাগুরার নাজমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু বকর কিংবা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক আবদুল হাকিম এমনসব ঘটনারই উদাহরণ।

একই ধরণের ঘটনা সবশেষ ঘটলো রামপুরায়। দু’গ্রুপের গোলাগুলিতে শুক্রবার গুলিবিদ্ধ হন ৩ নিরাপরাধ মানুষ। যাদের দু’জনই শিশু।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সংঘর্ষই প্রমাণ করে থামছে না অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। আর সে কারণেই ঘটছে গোলাগুলি, নিহত ও আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষও।

অপরাধ বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘এই অবৈধ অস্ত্রেরও একটা আলাদা রকম বাস্তবতা আছে, আলাদা অর্থনীতি আছে। অপরাধী বা যাদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের মধ্যে একটা ভাগ বাটোয়ারা হয়, আমি বলছি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই খারাপ, অনেক ভাল কর্মীও পাবেন। তবে তার মধ্যে কিছু খারাপ লোকও আছে। সেই কারণেই নিয়ন্ত্রণেও এগুলো হচ্ছে।’

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এসব রোধে কাজ করছেন তারা।

ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমাদের থানা পুলিশ তো কাজ করে যাচ্ছেন। এটা মাদের রুটিন মাফিক কাজ। এরা আটক থাকলে এরকম কাজ বন্ধ হবে।’

তবে বাস্তবতা হলো- হানাহানি থামছে না। এমনকি দু’গ্রুপের মাঝে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষের পরিবারগুলো বিচারও চাইতে পারেন না ক্ষমতাবানদের ভয়ে।

Comments

comments