রুয়েট ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কমিটি স্থগিত

পূর্বশত্রুতার জের ধরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় রুয়েট ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রুয়েটের শহীদ আবদুল হামিদ হলে এ সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

আহতরা হলেন রুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবিদ হাসান মিতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফি, প্রচার সম্পাদক মাহাথির, ক্রীড়া সম্পাদক রবিন, ছাত্রলীগকর্মী ইমরান ও রাহাত।

আহতদের মধ্যে রাহাত রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড়ের অনুসারী আর বাকিরা সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর অনুসারী। আহত সবাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত রাত ১০টার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রুয়েটের হামিদ হলে যান রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। এ সময় খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরাও অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নেন। হলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় হলে থাকা আবাসিক শিক্ষার্থীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টা চলা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হামিদ হলের বিভিন্ন কক্ষ ও বারান্দার জানালার কাচ এবং কয়েকটি কক্ষের দরজা ভাঙচুর করা হয়েছে। হলের কয়েকটি স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রক্ত পড়ে আছে। পুরো হলজুড়ে লাঠিসোটা, রডসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলও পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এর আগে র‌্যাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এতে সভাপতি গ্রুপের ১১ নেতাকর্মী আহত হন। সেই ঘটনাও রুয়েটের হামিদ হলেই ঘটে। সে ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের হয়ে নেতৃত্ব দেন আবিদ হাসান মিতুল।

জানতে চাইলে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড় বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির জায়গা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।’

তবে এ বিষয়ে জানতে রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘সংঘর্ষের পর যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

Comments

comments