চীন-ভারত দ্বন্দে বন্ধ হয়ে গেল সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প

বর্তমান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ২০০৯ সালেও একই দায়িত্বে ছিলেন। সে বছরের অক্টোবর মাসে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ২০১৬ সালে বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। ২০১৮ সালে এসে জানা গেল বন্ধ হয়ে গেছে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কার্যক্রম।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় মূলত এই প্রকল্পটি থেমে গেছে। কিন্তু নেপথ্যে চীন ও ভারতের দ্বন্দের বলি হয়েই বন্ধ হয়ে গেল এই মেগা প্রোজেক্ট। বঙ্গোপসাগরে এই দুটি দেশই নিজেদের অবস্থান জানান দিতে উৎসুক। আর এরই মধ্যে চীনের নিকট থেকে দুটি সাবমেরিন ক্রয় করে ভারতের বিরাগভাজন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। তাই উভয় দেশের চাহিদার দিকে খেয়াল করেই ফিরে আসতে হলো এই প্রকল্প থেকে।

এ ধরনের একটি সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কতটা জরুরি, সেটা আমাদের নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। সিঙ্গাপুরের মতো দেশের তো আয়-রোজগারের বড় একটি খাত হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। তাত্ত্বিকভাবে সমুদ্রবন্দর হচ্ছে এমন একটি অর্থনৈতিক অবকাঠামো, যা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নানামুখী প্রভাব ফেলে। এটা রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে ওঠা, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয় বাড়াতে জোর ভূমিকা রাখে। এ ধরনের একটি গভীর সমুদ্রবন্দর শুধু স্থানীয় বা জাতীয় নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানই দেশটির জন্য এক বড় সুযোগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের এমন জায়গায়, যার আশপাশের দেশগুলোর অনেক অঞ্চল পুরোপুরি ভূমিবেষ্টিত, সমুদ্রের প্রবেশাধিকার নেই। বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হলে সাত উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্য, নেপাল, ভুটান, চীনের কুনমিং বা মিয়ানমারের শান ও রাখাইন রাজ্য এর সুফল পেতে কাজে লাগাতে পারতো। কিন্তু এসবকিছুই ভেস্তে গেল ভারতের নির্দেশনায় চীনের সাথে চুক্তি না করতে পারার কারণে।

অবশ্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বিষয়টি কৌশলে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে-এমন মন্তব্য সঠিক নয়। তবে এটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মংলা বন্দর সচলের পাশাপাশি পায়রা বন্দরও চালু করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধিকে সামলাতে হলে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। মংলা, পায়রা, গভীর সমুদ্র বন্দরকে আমাদের আরও উন্নত করতে হবে।’

Comments

comments