জয়বাংলা কেন বারবার ধর্ষকদের শ্লোগান?

যদিও আওয়ামী লীগ ও বাম মহল বারবার জয়বাংলা শ্লোগানকে মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান বলে জোর প্রচার করার চেষ্টা করে। তবুও এই শ্লোগান মূলত ধর্ষকদের শ্লোগানে পরিণত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এই শ্লোগানকে ব্যবহার করে নারী নিগ্রহের সাথে জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের চিহ্নিত নেতা-কর্মীরা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতই মার্চ উপলক্ষে আজ আওয়ামী লীগের জনসভায় আসা নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন ছাত্রী। এসময় তাদের যৌন হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের উদ্ধার করতে সামর্থ হয়। একইভাবে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও।

অদিতি বৈরাগীর হৃদয় বিদারক ফেসবুক স্ট্যাটাস

আওয়ামী নেতা-কর্মীদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী অদিতি বৈরাগী তার ফেসবুকে লিখেছেন- “শান্তিনগর মোড়ে এক ঘন্টা দাড়ায়ে থেকেও কোনো বাস পাইলাম না। হেটে গেলাম বাংলামটর। বাংলামটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেসে এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেসে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেসে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিড়ে গেসে । ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেসে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিসে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি। প্রচন্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোনো কাটাছেড়া নাই। মেন্টালি ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট শারীরিক ভাবে ভালো আছি। আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না…”

প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা ফেসবুকে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ছাত্রী আফরিনা আসাদ মেঘলা। তিনি তার ফেসবুক এ্যাকাউন্টে লিখেছেন- “হল থেকে বের হয়ে কোন রিক্সা পাইনি। কেউ শাহবাগ যাবে না। হেঁটে শহীদ মিনার পর্যন্ত আসতে হয়েছে। আর পুরোটা রাস্তা জুড়ে ৭ মার্চ পালন করা দেশভক্ত সোনার ছেলেরা একা মেয়ে পেয়ে ইচ্ছেমতো টিজ করছে। নোংরা কথা থেকে শুরু করে যেভাবে পারছে টিজ করছে। বহু হয়রানির পর শহীদ মিনার থেকে রিক্সা নিয়ে শাহবাগ যাচ্ছি। এতেও রক্ষা নাই। চারুকলার সামনে একদল ছেলে পানির বোতল থেকে ইচ্ছেমতো পানি ছিটাইছে গায়ে। প্রায় আধাভেজা করে দিছে। যখন রাগ হচ্ছিলাম তখন তো আরেকজন রিক্সার পেছন থেকে চুল টেনে দৌড় দিছে। সিরিয়াসলি !!!
রিক্সা থেকে নামতে চাচ্ছিলাম জুতাবো ওইটাকে তাই। পাশের রিক্সার ভদ্রলোক খুব ভদ্রভাবে না করলো তাই রিক্সা থেকে নামিনি। গৌরবময় ৭ মার্চ সোনার ছেলেরা এত ভালভাবেই পালন করছে যে নিজের ক্যাম্পাসেই harass হতে হয়। ও হ্যা কেউ যেন আবার বলতে আসবেন না, জানেনই তো আজ ঝামেলা হবে বের হতে গিয়েছেন কেন!!”

প্রশ্ন হচ্ছে, এই কর্মকান্ড কি আজকেই নতুন? নাকি এটি ঐতিহ্যে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ? চলুন ইতিহাস রোমন্থন করা যাক।

কেস স্টাডি ১: ছাত্রলীগ নেতা জসিমউদ্দিন মানিকের কথা অনেকেরই মনে আছে। ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা জসিমউদ্দিন মানিক ১০০ ছাত্রীকে ধর্ষণের ‘সেষ্ণুরি উৎসব’ পালন করেছিল। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে জাবিসহ দেশের সব মহলে নিন্দা ও ধিক্কারের ঝড় ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মানিককে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়। অবশেষে মানিককে তৎকালীন আওয়ামী সরকার বিদেশে পাড়ি জমাতে সহায়তা করেছিল।
(সূত্র : আগস্ট, সেপ্টেম্বর ’৯৮ ইত্তেফাক, মানবজমিন, ডেইলি স্টার)

কেস স্টাডি ২: ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি বরিশালের গৌরনদী থানার সুন্দরদী গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ডালিয়াকে ছাত্রলীগের একদল সশস্ত্রকর্মী যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে অপহরণ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পবিত্র রমজান মাসে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছিল (১৮ জানুয়ারি ’৯৭, ইনকিলাব)।

থার্টি ফার্স্ট নাইটে টিএসসিতে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কর্তৃক তরুণী বাঁধনের বস্ত্রহরণের নির্লজ্জ দৃশ্য

কেস স্টাডি ৩: ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্রলীগ নেতা রাসেল, মামুন শাওন আক্তার বাঁধন নামক এক তরুণীকে বিবস্ত্র ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে ঘটনায় সারা দেশে ধিক্কার ও নিন্দার ঝড় উঠেছিল (১ জানুয়ারি ২০০০, ইনকিলাব, মানবজমিন, প্রথম আলো, সংগ্রাম)। কিন্তু আদালত বাধনের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে ১০ বছর পর রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব দেখিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলুল হক রাসেলসহ মামলার তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত।

কেস স্টাডি ৪: ২০০০ সালের ২৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক তরুণীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ধর্ষণ করে সূর্যসেন হলের চার ছাত্রলীগ ক্যাডার (৩০ জুন ২০০০, প্রথম আলো, সংবাদ)।

কেস স্টাডি ৫: ২০০০ সালের ৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের এক ছাত্রলীগ ক্যাডারের কক্ষ থেকে জন্মনিরোধক বড়ি, ওড়না, লিপস্টিক, পারফিউম ও লেডিস ঘড়ি উদ্ধার হয়। জানা যায়, এক বান্ধবী নিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডার এমদাদ তার কক্ষে অপকর্ম চালাত (৬ জুলাই ২০০০, ইনকিলাব)।

বর্ষবরণে যৌন হয়রানির দৃশ্য

কেস স্টাডি ৬: ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসএসসিতে কয়েকজন নারীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বর্ষবরণের দিন টিএসসিতে সংঘটিত নারী লাঞ্ছনা সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘তিন-চারটা ছেলে দুষ্টামি করতাছে, মেয়েদের শ্লীলতাহানি করছে, কেউ আগায়া আসল না, বাকি লোক তাকিয়ে দেখল। একটা লোকও তো বলল না, এই লোকটাকে তারা চেনে। তারা তাদের বাড়ির পাশের।’ (প্রথম আলো, ১৩ মে ২০১৫)। মূলত: ছবি ও ফুটেজ থাকার পরেও শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী হওয়ায় সরকারি নির্দেশে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হামলার শিকার হন শিক্ষার্থী খাদিজা

কেস স্টাডি ৭: ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার খুলি ভেদে করে মস্তিষ্কও জখম হয়। এই ঘটনায় বদরুলকে বহিষ্কার ও আদালত তাকে যাবজ্জীবন দিয়েছে। (প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত)

ধর্ষণ করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানিম হাসান তারেক

কেস স্টাডি ৮: ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর, চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণচেষ্টার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক তারিক হাসান তারেক। শুক্রবার গভীর রাতে কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, মদ্যপ অবস্থায় শুক্রবার রাতে কলেজ চত্বরে বসবাসরত এক পরিচারিকার ঘরে ঢুকে অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ছাত্রলীগ নেতা তারেক। এ সময় ওই পরিচারিকার ছেলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারেককে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তারেককে গণপিটুনি দেয় এবং তার চুল কেটে দিয়ে অণ্ডকোষ ইট দিয়ে ছেঁচে দেয়। তবে ছাত্রলীগের আরও কিছু নেতা গিয়ে তারেককে উদ্ধার করে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা। মামলার বিবরণে এ তথ্যের সত্যতা মিলেছে। (বাংলা ট্রিবিউন)

কেস স্টাডি ৯: ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর কবির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। ওই ছাত্রী ময়মনসিংহের মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করে। অভিযুক্তরা ওই শিক্ষার্থীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে ওই কলেজছাত্রীর এক বান্ধবী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে গত ১৫ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

কেস স্টাডি ১০: ২০১৭ সালের ১০ মার্চ ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর গত ২৭ আগস্ট ভোলা সদর থানায় মামলা হয়। ওই ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করে। অভিযুক্ত রিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গত ৩১ আগস্ট শহরের আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

ধর্ষণের দায়ে আটক বরগুনার চার ছাত্রলীগ নেতা

কেস স্টাডি ১১: ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট বরগুনা পাথরঘাটা কলেজের পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার হয়। পরে ওই তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক এ কথা জানান। গ্রেপ্তাররা হলো- পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনাল দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯), উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. মাহমুদ (১৮) ও কলেজের নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪)।

কেস স্টাডি ১২: ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এরশাদনগর এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ের ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠে। পরে তাকে আটক করে পুলিশ। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ মাসুদ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন

কেস স্টাডি ১৩: ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তার দলের স্কুল কমিটির এক নেত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াদ হোসেন। সে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

কেস স্টাডি ১৪: ৮ নভেম্বর বুধবার রাতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজবাড়ী জেলার রামকান্তপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের হাতে আটক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন হাওলাদার

কেস স্টাডি ১৫: ২৮ ডিসেম্বর শরীয়তপুরে ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও সেসব দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হয় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, পুলিশ ও কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফ হোসেন গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা রেখে স্থানীয় এক নারীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও দেখিয়ে পরে তাকে ধর্ষণ করে। এছাড়া আরিফের কলেজপড়ুয়া চাচাত বোন এবং এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

কেস স্টাডি ১৬: ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে সংগঠনের ২০-২৫ জনের একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে যান। তারা উপাচার্যকে কক্ষে পাঠিয়ে আন্দোলনকারীদের করিডর থেকে সরিয়ে দেন। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েক’শ কর্মী এসে জড়ো হন। এরপর তারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং গায়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

জয়বাংলা শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে এভাবে নারী নিগ্রহের ঘটনা সত্যিই দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। ভাবতে শেখাচ্ছে ‘জয়বাংলা’ কি ধর্ষকদের শ্লোগান? ধর্ষণ আর নারী নিগ্রহের ঘটনা কি এই শ্লোগানধারীদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়াবে?

Comments

comments