সমাবেশে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হাতে ভিকারুন্নেসার ছাত্রী লাঞ্ছিত

আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডাররা এভাবেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের জনসভায় আসা নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন ছাত্রী। এসময় তাদের যৌন হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের উদ্ধার করতে সামর্থ হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভার কারণে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আর সেই জনসভার কারণে রাজধানীতে গণপরিবহন কম থাকার কারণেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে অনেককে। পুলিশের নির্দেশনায় রাস্তায় গণপরিবহণ কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সব পেশার মানুষ। এমনই একজন কলেজ ছাত্রী অদিতি বৈরাগী। তিনি রাজধানীর ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যান্য সবার মতই তিনি বাড়ি ফেরার জন্য রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার সাথে একই কলেজের আরও কয়েকজন মেয়ে ছিল। এসময় আওয়ামী লীগের ৭ই মার্চের সমাবেশের একটি মিছিল ওই এলাকায় আসে। এবং সেই মিছিল থেকে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ঘিরে ফেলে। এবং তাদেরকে বিভিন্নভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করে। শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌনহয়রানির ঘটনা ঘটায়। সাথে সাথে প্রশাসন তৎপরতা না দেখালেও কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ সদস্য তাদের উদ্ধার করে একটি বাসে তুলে দেয়।

অদিতি বৈরাগী তার ফেসবুকে লিখেছেন- “শান্তিনগর মোড়ে এক ঘন্টা দাড়ায়ে থেকেও কোনো বাস পাইলাম না। হেটে গেলাম বাংলামটর। বাংলামটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেসে এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেসে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেসে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিড়ে গেসে । ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেসে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিসে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি। প্রচন্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোনো কাটাছেড়া নাই। মেন্টালি ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট শারীরিক ভাবে ভালো আছি। আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না…”

প্রায় একই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অদিতির স্ট্যাটাসে তোয়া সাইয়ারা নামে একজন ছাত্রী কমেন্ট করেছেন- “ শান্তিনগর মোড়ে নামসি রিকশা থেকে, দেখি দুইদিক থেকে দুই ধরনের মিছিল! এবং তাদের চাহনিও শুরু হয়ে গেসে, আগেও এইরকম পরিস্থিতি তে পরসি দেখে মাথা ঠান্ডা রেখে ওভারব্রিজে দৌড়ায় উঠে গেলাম! এরপর দৌড়ে ওভারব্রিজ দিয়ে জাস্ট নেমে হাতিরপুলের রাস্তাটা দিয়ে দ্রুত হেটে চলে আসছি। আজকের মত বেচে গেসি আরকি! তবে এইরকম তো হতেই থাকে, কয়দিন কয়জন বাঁচবে?”

অদিতি বৈরাগীর হৃদয় বিদারক ফেসবুক স্ট্যাটাস

প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা ফেসবুকে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ছাত্রী আফরিনা আসাদ মেঘলা। তিনি তার ফেসবুক এ্যাকাউন্টে লিখেছেন- “হল থেকে বের হয়ে কোন রিক্সা পাইনি। কেউ শাহবাগ যাবে না। হেঁটে শহীদ মিনার পর্যন্ত আসতে হয়েছে। আর পুরোটা রাস্তা জুড়ে ৭ মার্চ পালন করা দেশভক্ত সোনার ছেলেরা একা মেয়ে পেয়ে ইচ্ছেমতো টিজ করছে। নোংরা কথা থেকে শুরু করে যেভাবে পারছে টিজ করছে। বহু হয়রানির পর শহীদ মিনার থেকে রিক্সা নিয়ে শাহবাগ যাচ্ছি। এতেও রক্ষা নাই। চারুকলার সামনে একদল ছেলে পানির বোতল থেকে ইচ্ছেমতো পানি ছিটাইছে গায়ে। প্রায় আধাভেজা করে দিছে। যখন রাগ হচ্ছিলাম তখন তো আরেকজন রিক্সার পেছন থেকে চুল টেনে দৌড় দিছে। সিরিয়াসলি !!!
রিক্সা থেকে নামতে চাচ্ছিলাম জুতাবো ওইটাকে তাই। পাশের রিক্সার ভদ্রলোক খুব ভদ্রভাবে না করলো তাই রিক্সা থেকে নামিনি। গৌরবময় ৭ মার্চ সোনার ছেলেরা এত ভালভাবেই পালন করছে যে নিজের ক্যাম্পাসেই harass হতে হয়। ও হ্যা কেউ যেন আবার বলতে আসবেন না, জানেনই তো আজ ঝামেলা হবে বের হতে গিয়েছেন কেন!!”

ঢাবি শিক্ষার্থী আফরিনা আসাদ মেঘলার ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রীণশট

 

আওয়ামী নেতা-কর্মীদের হাতে নিগ্রহের শিকার আরও দুই নারীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

Comments

comments