কাছে আসা ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন জাফর ইকবাল!

ফেসবুকে জাফর ইকবালের বহুল প্রচারিত একটি ছবি (ফাইল ফটো)

কৃষক লীগ নেতার ভাগ্নে কর্তৃক ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর আবারো আলোচনায় মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। তার এই আহত হওয়া নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা সমালোচনাও চলছে। আর এভাবেই বেরিয়ে আসছে অনেক থলের বেড়াল। বেসরকারি একুশে টেলিভিশনের অপরাধ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান একুশের চোখ এর জনপ্রিয় ক্রাইম রিপোর্টার ইলিয়াস হোসাইনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বেরিয়ে এসেছে এমন অনেক অজানা তথ্য। যদিও অজানা কারণে প্রায় নয় ঘন্টা পর দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিজ প্রোফাইল থেকে মুছে দিয়েছেন একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক ইলিয়াস হোসাইন।

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

ইলিয়াস হোসাইন দাবি করেন, জাফর ইকবাল নাস্তিক নন, একজন লম্পট। আর এর প্রমাণ পেতে কোন কাজ নিয়ে জাফর ইকবালকে নিজে ফোন দিয়ে ও পরে বান্ধবীকে দিয়ে ফোন দিয়ে পরীক্ষা করার মত ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। ইলিয়াস হোসাইন লিখেছেন- ‘আমার যে স্ট্যাটাস নিয়ে এতো হইচই সেখানে কোথায় লেখা আছে, “জাফর ইকবাল নাস্তিক?” বলেছি সে একটা লম্পট! ঐটা এখনও বলছি! এটার প্রমান চান? আপনি ওনাকে যে কোন একটা বিষয়ে ফোন দিবেন। কদিন পর একই কারনে আপনার বান্ধবীকে দিয়ে ফোন করাবেন, দেখবেন পার্থকটা!’

সেলফিতে অংশ নিচ্ছেন জাফর ইকবাল। ছবি: ফেসবুক থেকে

অপরাধ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান একুশের চোখ এর জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন ইলিয়াস হোসাইন। ওই অনুষ্ঠান পরিচালনার সুবাদে অনেক অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি। আর তাই জাফর ইকবালের লাম্পট্যের অনেক খবর জমা ছিল তার কাছে। তাকে নিয়ে এই প্রতিবেদক নিউজও করতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ইলিয়াস। তিনি লিখেছেন- ‘আমি ওনাকে নিয়ে একটা নিউজ করতে চেয়েছিলাম। ওনার ফ্যাকাল্টির একটা মেয়ে একুশের চোখের ঠিকানায় ষাড়ের কিছু অপকর্মের কথা লেখা চিঠির সুত্র ধরে। তার মতো অনেক মেয়েই নাকি ষাড়ের যৌন হয়রানীর শিকার! কিন্তু আমাদের সম্পাদক আমাকে নিউজটা করতে দেয়নি! এছাড়াও যেখানেই পুরস্কার বিতরন সেখানেই সে হাজির! স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদেরকে পর্যন্ত জড়িয়ে ধরা তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে!’

সেলফিতে জাফর ইকবাল

শুধু ইলিয়াস হোসাইনই নয়, জাফর ইকবালের এহেন কর্মকান্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে অনেক আগে থেকেই। বিশেষত: মেয়েদের সাথে অনেক অপত্তিকর ভঙ্গির ছবি ফেসবুকে অহরহ পাওয়া যায়। বিতর্কিত এই সেলফি তোলার ব্যাপারে তার বিশেষ আগ্রহের কথা বেশ পুরনোই।

তবে ইলিয়াস হোসাইন তার বহুল আলোচিত ফেসবুক স্ট্যাটাসটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। আর তা হলো গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজনকে জমজমাট করতেই কোন একটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক হত্যা করা হয় নাস্তিক ব্লগার রাজিব হায়দার ওরফে থাবা বাবাকে। আর এ তথ্য র‌্যাবেরও জানা ছিল। আর র‌্যাব মারফত এই খবর একদিন আগেই জানতে পারেন ইলিয়াস হোসাইন। এই হত্যাকান্ডের ঘটনা সম্পর্কে  আগে থেকেই পূর্ণাঙ্গ ওয়াকিবহাল ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাই ৫ ওয়াক্ত নামাজী হলেও সেদিন ওই নাস্তিকের বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এমনটাই দাবি করেছেন এই প্রতিথযশা সাংবাদিক ইলিয়াস।

তিনি লিখেছেন- ‘কথিত গণজাগরণ মঞ্চের শুরুতে ব্লগার রাজিব খুনের কথা মনে আছে? সে যে খুন হবে সেটা আমি জানতাম একদিন আগে! ঘটনার আগের দিন RAB এর একটা অভিযান শেষে ঢাকার একটা ক্যাম্পের অধিনায়কের রুমে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। RAB এর সোহায়েল ভাই, জিয়া ভাই থেকে শুরু করে অনেকের সাথে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্টতা ছিলো। ঐ অফিসারের সাথে সম্পর্কটা আরও গভীর । যে কারণে অনেক ভেতরের খবরও আমাকে বিশ্বাস করে বলতো। খাবার এক পর্যায়ে সে বললো, ইলিয়াছ ভাই, কালকে গণজাগরণ মঞ্চের একটা উইকেট পড়বে! আমি কিছু বুঝতে না পেরে আবার প্রশ্ন করলাম, কিসের উইকেট? বললেন, গণজাগরণ মঞ্চ আরও জমজমাট করতে এক নাস্তিক কে ফেলে দেয়া হবে! আমি জিজ্ঞেস করলাম কারা করবে, RAB? বললো না, ওনারা ( একটা গোয়েন্দা সংস্থার নাম বললো)। বিষয়টা নাকি প্রধানমন্ত্রীও জানেন!

পরদিন হঠাৎ শুনলাম রাজিব খুন! প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজিবের বাসায় যাচ্ছেন! আমি সাথে সাথে RAB এর ঐ অফিসারকে ফোন করি। সে ফোন রিসিভ করেই বললো কেন ফোন করেছেন জানি, ঘটনা এইটাই! অফিসে এসেন সাক্ষাতে কথা হবে। আমরা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কারণে অনেক সমালোচনা করি কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর খুব বিশ্বস্ত একজন মানুষের কাছে শুনেছি, শেখ হাসিনা আসলেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং সকালে কোরআন শরীফ না পড়ে তিনি কখনই বাইরে বের হন না। অতএব তার অন্য দোষ থাকতে পারে কিন্তু তিনি অত্যন্ত আস্তিক একজন মানুষ। রাজিব মারা যাবার পর তার বাসায় যাওয়াটা শুধুই তার রাজনীতি, সহানুভূতি নয়!’

ইলিয়াস হোসাইন আরও লিখেছেন- ‘আমার ধারনা আমেরিকা প্রবাসী নাস্তিক অভিজিৎ খুনের পিছনেও ঐ গোয়েন্দা সংস্থার হাত আছে! অতএব যারা বিদেশে পালিয়ে ধর্ম নিয়ে কুটক্তি করছেন, তাদের দেশে ফেরার খবর তাদের অজানা থাকবে না। অতএব আপনি কোন ধর্ম মানলে মানেন না মানলে না মানেন, কারও ধর্ম নিয়ে কুটক্তি করবেন না। আস্তিকরা কখনও আপনাদের নিয়ে আগে কথা বলে না। যতক্ষণ আপনারা কুরূচিপূর্ণ মন্তব্য না করেন।’

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ফেসবুক স্ট্যাটাস এর স্ক্রীণশট

Comments

comments