অবশেষে সেই ইবি শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল প্রক্টর মাহবুব

বেআইনীভাবে পুলিশের হাতে ৫ দিন আটক থাকা ইবি ছাত্র আহমাদ শাহ মাসুদ

জিজ্ঞাসাবাদের দোহাই দিয়ে শৈলকূপা থানার পুলিশকে ব্যবহার করে টানা ৫ দিন বেআইনীভাবে আটকে রাখা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থীকে বিভাগের এক শিক্ষকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান। বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম আহমাদ শাহ মাসউদ। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতির অবর্তমানে সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমানের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

ছাত্র জিম্মিকারী ইবি প্রক্টর মাহবুবর রহমান

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতির ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীকে চার দিন আটকে রেখে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে প্রশাসন। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয় এ নিয়ে। এরপর রোববার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেয়া হলো।

তবে মুক্তি দেয়ার আগে জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে তার অভিযোগ অস্বীকার করতে বাধ্য করে প্রক্টর। মাসউদের এক বন্ধুর সাথে কথা বলে জানা যায়, এ্যাম্বুলেন্সে হামলা ও ডাকাতির ঘটনা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সেক্রেটারীর ওপর চাপানোর জন্য ইবি থানা পুলিশকে ব্যবহার না করে কৌশলে শৈলকূপা থানা পুলিশকে ব্যবহার করে মাসউদকে অন্যায়ভাবে ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় প্রক্টর মাহবুবর রহমান। পরে তাকে তার ইচ্ছেমত ছাত্রশিবিরের নেতাদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিতে হুমকি দিতে থাকে। গভীর রাতে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে কয়েকবার পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ঘুরানো হয় এমনকি হত্যারও ইঙ্গিতও দেয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোন তথ্য পায়নি প্রক্টরের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ।

শনিবার পুলিশের হেফাজতে থাকা শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসলে এসব তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। কৌশলে সাংবাদিকরা মাসউদের ব্ক্তব্য নিতে সামর্থ হয়। পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে প্রক্টরের এহেন আচরণ সর্বমহলে নিন্দিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আহমদ শাহ মাসউদকে তার বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমানের কাছে তাকে হস্তান্তর করে প্রক্টর। এসময় মিডিয়ায় এ খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে আরবি বিভাগের শিক্ষকদের নানাভাবে হুমকিও দেয় প্রক্টর। এবং ‘আমি, প্রক্টর স্যার ও পুলিশকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা। আমার বরাত দিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই’ এই মর্মে শিক্ষার্থী মাসউদের নিকট থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা নেয় ইবি প্রক্টর মাহবুবর রহমান।

আহমদ শাহ মাসউদ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইবি শিক্ষক সমিতির সাবেক নেতা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এক অধ্যাপক জানান- ‘মাসউদ খুবই নম্র-ভদ্র ছেলে। তাকে বিভাগের সবাই চেনে। সে যথেষ্ট মেধাবীও বটে। অনার্সে সে সিজিপিএ ৩.২৫ পেয়েছে। এরকম একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যখন রাজনীতির শিকার হয় তখন ভাবতেও অবাক লাগে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে চাই না।’

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীকে ফাঁসাতে ইবি প্রক্টর ও পুলিশের ভয়ংকর চক্রান্ত ফাঁস!

Comments

comments