রাবি’তে শিবির কর্মীসহ সাধারণ ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা ও বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রশিবির

রাবিতে ছাত্রলীগের বর্বর হামলায় গুরুতর আহতদের একাংশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা ও বর্বর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো বর্বরতার নৃশংস নজীর স্থাপন করেছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রানুর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী কোন কারণ ছাড়াই নিরাপরাদ সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিবিরকর্মীসহ মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। পরে তাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২৩১ ও ২২৮ রুমে নিয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা ব্যাপী পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালায়। সন্ত্রাসীরা বর্বর নির্যাতন করে শিক্ষার্থীদের গুরুতর আহত করে এবং ৩ জনের হাত পা ভেঙ্গে দেয়। তাদের মধ্যে দু জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে তারা ৯ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ ঘটনার সময় হল প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত থাকলেও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে আটককৃত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাদের এই দায়িত্বহীন ভূমিকায় মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। অথচ হল ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের। পুলিশ ও প্রশাসনের সামনেই জঙ্গিবাদী ছাত্রলীগ নিরপরাধ ছাত্রদের উপর মধ্যযূগীয় বর্বরতা চালিয়েছে এবং এ বর্বরতার কথা দাম্ভিকতার সাথে স্বীকারও করেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদের নিরাপত্তার জিম্মা নিয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের কাছে নতজানু থাকলে এমন গুরত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন ভূমিকার কারণে বহু ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে ছাত্রলীগ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনটি ক্যাম্পাস গুলোতে প্রশ্ন ফাঁস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, ইভটিজিং, র‌্যাগিংসহ নানাবিধ অপকর্ম করে যাচ্ছে। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও পুলিশের নির্লজ্জ সহযোগিতায় নিরপরাধ শিবির কর্মীসহ সাধারণ ছাত্রদের উপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে যাচ্ছে। ক্যাম্পাস গুলোকে মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছে। বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালনের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে মদদ যুগিয়েছে। সাধারণ ছাত্রদের উপর অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা নির্যাতন ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। অবিলম্বে চিহ্নিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পুলিশের জিম্মায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ছাত্রদের কোন রকম হয়রানী না করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি

Comments

comments