জিপির নামে চাঁদাবাজি, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

কুমিল্লার শাসনগাছা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদের। চালকদের অভিযোগ, জিপির নামে মালিক সমিতি ও স্ট্যান্ডের ইজারাদার চাঁদা আদায় করায় বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন তারা। স্ট্যান্ড ইজারাদাতা কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদ বলছে—নির্ধারিত হারের অধিক টোল আদায় করা হলে ইজারা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চালকদের অভিযোগ, শাসনগাছা-ব্রাহ্মণপাড়ার ২৩ কিলোমিটার সড়কে জিপির নামে প্রতিদিন সিএনজিপ্রতি ৩৩০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। তারা জানান, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণপাড়ায় যেতে শাসনগাছা স্ট্যান্ড, পালপাড়া, ভরাশাল, বুড়িচং, চৌমুহনী ও বি-পাড়া স্ট্যান্ডে জিপির টাকা দিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জানান, শুধু শাসনগাছা স্ট্যান্ডেই প্রতিদিন জিপি দিতে হয় ২৫০ টাকা। বুড়িচংয়ে ৩০, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩০, ভরাসার বাজারে ১০ ও বারেশ্বরে ১০ টাকা জিপি দিতে হয়। সব মিলিয়ে চালকদের শুধু জিপির টাকাই গুনতে হয় ৩৩০ টাকা। তাই তারাও বিপাকে রয়েছেন। কারণ, যাত্রী থাকলেও জিপির টাকা দিতে হয়, আবার না থাকলেও দিতে হয়।

যাত্রীরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও ব্রাহ্মণপাড়া রোডে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। তারপর গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তখন জিপি ৬০ টাকা থেকে হয়ে যায় ১৩০ টাকা। অতিরিক্ত জিপি কমানোর জন্য আন্দোলন করেন চালকরা। কিন্তু তা না কমিয়ে উল্টো কয়েকজন চালককে জেলে নেওয়া হয় এবং জিপি নির্ধারণ করা হয় ২৫০ টাকা। আর এক্ষেত্রেও যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় ৪০ টাকার স্থলে অতিরিক্তি ১০ টাকা। এখন যাত্রীপ্রতি ভাড়া দিতে হয় ৫০ টাকা। এতে তীব্র অসন্তোষ থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। কিন্তু তা আরও অসহনীয় পর্যায়ে ঠেকে সন্ধ্যার পর। তখন ভাড়া হাঁকানো হয় ৮০ টাকা। অন্যদিকে জিপি আদায়কারীদেরও গাড়িপ্রতি দিতে হয় ৫০ টাকা। এ নিয়ে প্রায় সময় যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের মারামারির ঘটনাও ঘটে। অনেকটা বাধ্য হয়েই বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে চলতে হয় যাত্রীদের।

শাসনগাছা স্ট্যান্ডের ইজারাদার (সিএনজিচালিত অটোরিকশা অংশ) মো. জুয়েল ও কুমিল্লা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ নিয়াজ পাভেল।

জুয়েল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন প্রতিটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ৩৫ টাকা করে আদায় করি। ব্রাহ্মণপাড়া স্ট্যান্ড আদায় করে ৩০ টাকা। এর বাইরে কে বা কারা বাড়তি জিপি আদায় করছে বলতে পারবো না। রাতে যাত্রী কম পাওয়ায় ভাড়া ১০ টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হয়।’

শাসনগাছা স্ট্যান্ডের সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান টিটু। তারা সমিতির নামে পালপাড়া স্ট্যান্ডে ৬০ টাকা জিপি আদায় করেন।

এ প্রসঙ্গে আনিছুর রহমান টিটু বলেন, ‘আমরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কল্যাণ তহবিল গঠন এবং তাদের অনুমতিক্রমে দৈনিক ৬০ টাকা করে জিপি আদায় করি, যা চালকদের বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধায় অর্থ দিয়ে সাহায্য করা হয়।’

আদায় করা জিপির টাকা থেকে চালকদের এই পর্যন্ত কি কি সুবিধা দেওয়া হয়েছে আনিছুর রহমান টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে কোনও তথ্য দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা জানান, আদায় করা জিপির টাকা আমাদের কোনও উপকারে আসে না।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘প্রতিবছর জেলা পরিষদ বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেয়। ইজারা দেওয়ার সময় শর্ত দেওয়া হয়— জেলার অভ্যন্তরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন একবার ১০ টাকা হারে টোল আদায় করতে পারবে। নির্ধারিত হারের অধিক টোল আদায় করা হলে ইজারা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো। যাত্রী ও চালক হয়রানির প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

comments