ভাল থাকুক প্রবাসীরা

শারমিন চৌধুরী: পরিচিত একজন এশিয়ার একটি দেশে থাকেন। দেখা হতেই বললাম- আচ্ছা! আপনি এত কাছে থাকেন, দু বছর পর পর আসেন কেন দেশে?

তাঁর উত্তর শুনে একদম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।

“কারণ কেউ আমাকে দেশে চায় না। সবার চোখ থাকে লাগেজের দিকে। কি আনসি, না আনসি। কারে কি দিলাম, কারে দিলাম না, একটু এদিক সেদিক হলেই বা কেউ মিস পরে গেলেই এতগুলা কথা।

আমি হয়ত আমার মনের শান্তির জন্য বারবার কিংবা কয়দিন পরে পরেই আসতে পারতাম। কিন্তু আমাকে দেখে তো কেউ শান্তি পেত না, কারণ বারবার তো এত কিছু আনা সম্ভব হত না।”

শুনে মনে হল- আমরা কত নিষ্ঠুর।

আচ্ছা! দেখা যায় যে এর থেকেও অনেক বেশী টাকা ইনকাম করা মানুষ দেশেই থাকে, কিন্তু তাঁর কাছে কেউ কিছু চায় না। কিন্তু বিদেশে লেবার হয়ে যাওয়া কিংবা শ্রমজীবী মাথার ঘাম পায়ে ফেলা এই মানুষদের কাছে চেয়ে বসে থাকি।

না আনলে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকি। কি নিষ্ঠুর না? আমরা!

আমি নিজের ভিতর থেকে এটা খুব অনুভব করি। আমার মামা বিদেশ থাকেন। আসার সময় সবার আগে আমাকে ফোন দিবে। জিজ্ঞেস করে কি আনব? সাথে সাথেই বলি কিচ্ছু লাগবে না। আপনি আসুন, আপনার আসাটাই আমার পাওয়া হবে।

যখন লাগেজ খোলা হয় এবং সব দেয়ার পর কম পরে তখন একমাত্র আমিই বাদ পরি। কারণ মামা জানে আমি এগুলোতে মাইন্ড করি না।

আর আমি যদি কখনো বিদেশ থাকি! সর্বনাশ! কারো জন্য তো কিছুই আনতে পারব না। শপিং একদমই পছন্দ না।

লাষ্টবারে যখন ইন্ডীয়া গেলাম, বাংলাদেশীদের দেখলাম হুলুস্থুল কেনাকাটা করছে। আমি কেনার কিছু না পেয়ে দুই চাচি আর ভাবির মা আর আম্মুর জন্য জাস্ট কাশ্মীরি শাল নিয়ে এসেছি। এগুলো কিনতেই হাঁপিয়ে উঠেছি।

যারা প্রবাসে থাকে তাদের সাথে প্রাণ ভরে কথা বলুন, তাঁর দুঃখের কথা শুনুন। আপনারা কথা বলার সময় এমন ভাব করেন যেন তাঁর কোন কষ্ট নাই, সব কষ্ট আপনাদের, সব চাওয়া আপনাদের। আমরা তাদের কাছে কিছু না শুনেই আবদার করতে থাকি। হয়ত লুকায় তারা তাদের কষ্টগুলো।

প্রবাসীদের কাছে আহবান- আপনি যখন যে পরিস্থিতিতে থাকেন কষ্ট কিংবা আনন্দ কোনকিছুই লুকাবেন না। সব প্রকাশ করবেন। দেশে থাকা আপনার প্রিয়জনদের জানার প্রয়োজন আছে তাদের জন্য আপনি কিভাবে অমানুষিক খাটছেন।

ভাল থাকুক প্রবাসীরা ও তাদের পরিবার।

ফেসবুক থেকে

Comments

comments