সামসুদ্দিন পা হারিয়েছেন, হিম্মত নয়

সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারিয়েছেন রিক্সা চালক সামসুদ্দিন। কিন্তু পুনর্বাসনে এগিয়ে আসেনি কেউ।

শুক্রবার। জুময়ার নামাজ শেষে খাওয়া দাওয়ার ঝামেলা চুকিয়ে বন্ধুর সাথে এক প্রকার তাড়াহুড়ো করেই বেরিয়েছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একুশে বই মেলায় যাবো দুজনেই। রিক্সা ঠিক করার সময় সুযোগ থাকলে মুরুব্বীদের রিক্সায় চড়ি। কারণ, অনেকেই দেরী হবে মনে করে বয়স্কদের রিক্সায় চড়তে চান না। তাড়াহুড়ো করে রিক্সায় উঠে পড়ায় খেয়ালই করিনি যে, রিক্সাওয়ালা চাচার একটি পা নেই। যখন খেয়াল করেছি তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছে গেছি।

যখন খেয়াল করলাম তখন তো অবাক! জিজ্ঞাসা করতেই তিনি জানালেন দুই মাস আগে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হলেও বেঁচে যান তিনি। কিন্তু চিকিৎসা করাতে গিয়ে হারিয়েছেন নিজের শেষ সম্বল জমিটুকুও। ভিটেবাড়ি ছাড়া এখন আর তার কিছুই নেই। আহত বাম পা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিলেন। পঁচন ধরার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে কেটে ফেলতে হয়েছে তার প্যাডেল ঘুরানোর অবলম্বন পরিশ্রমী পা।

নাম তার মো: শামসুদ্দিন। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় তার বাড়ি। আগেও তিনি ঢাকা শহরে রিক্সা চালাতেন। এখনও জীবিকার চাহিদায় তিনি রিক্সা চালান। কিন্তু এখন রিক্সা চালাতে হয় জীবনের ঝুকি নিয়ে। রিক্সা চালানোর সক্ষমতা নেই বললেই চলে। মনের জোরে তবুও ফের রিক্সা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। দু’মুঠো আহারের জন্য।

শুধুমাত্র ডান পায়ে ভর করে চালাতে হয় রিক্সা

ষাটোর্ধ রিক্সা চালক সামসুদ্দিন আর এভাবে ঝুকি নিয়ে রিক্সা চালাতে চান না। অন্তত একটি চায়ের দোকান দিয়ে বাকী জীবন চলতে চান। সামসুদ্দিনদের মত মানুষেরা কাজ করে খেতে চান। অন্যের সম্পদে লোভ নেই তাদের। কর্মচঞ্চল এই সামসুদ্দিনদের জন্য রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্ব রয়েছে এনজিও ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর। দায়িত্ব রয়েছে প্রত্যেকটি সামর্থবান মানুষের।

শেখার আছে হাত-পা ওয়ালা সেই সকল মানুষদের, যারা পুর্ণাঙ্গ সুস্থ থাকার পরেও ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়মের কাছে আত্মসমর্পন করেন। যারা শারীরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অবিরত চালিয়ে যান ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট, চোরাকারবারি- তারাও শিখতে পারেন সামসুদ্দিনদের কাছ থেকে। ওরা জীবনযুদ্ধে লড়াকু বীর…

Comments

comments