এক টাকায় গণভবন ৫ টাকায় ধানমন্ডির বাড়ি: লুটেরা কে?

অলিউল্লাহ নোমান

[ এই প্রতিবেদনটি ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদক অলিউল্লাহ নোমান এখন যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ] 

লুটেরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে হাস্যকর মনে করছেন সাধারণ মানুষ। পল্টন ময়দানে শুক্রবার শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণের পর বিষয়টি এখন মানুষের মুখে মুখে। গতকাল মতিঝিলের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, এক টাকায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিশাল গণভবন লিখে নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বোনের জন্য ধানমন্ডির একটি বাড়িও লিখে নিয়েছিলেন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে। শুধু তাই নয়, গণভবন লিখে নিয়ে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, যতদিন রাজনীতি করবেন এই ভবনেই থাকবেন।

২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন

ক্ষমতায় গিয়ে যিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে লিখে নিয়ে যেতে পারেন তার মুখে দুর্নীতি, লুটেরা কথা শোভা পায় না বলে মন্তব্য করেন জসিম উদ্দিন নামে পল্টনের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বরাবরই মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজির রাজনীতি করছেন। গণভবন লিখে নিয়ে যাওয়ার পর মানুষের সমালোচনার মুখে ক্ষমতা শেষে সেই বাড়ি ছাড়েন তিনি। তবে ফিরিয়ে দিয়ে যাননি। ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে চারদলীয় জোট বিজয়ী হওয়ার পর সরকার আইন করে গণভবন নিয়ে যাওয়ার দলীল বাতিল করেন।

শেখ হাসিনার আমলেই দেশের প্রতিটি জেলায় সন্ত্রাসের গডফাদার তৈরি হয়েছিল। ফেনীর জয়নাল হাজারী, লক্ষ্মীপুরের আবু তাহের, নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান, বরিশালের আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, ঢাকার হাজী সেলিম, হাজী মকবুলের নাম শুনলেই মানুষের গা শিউরে উঠতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থাকায় তারা ছিল বেপরোয়া। তাদের প্রত্যেকের নিয়ন্ত্রনে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এভাবে প্রতিটি জেলায় জেলায় সন্ত্রাসের গডফাদারদের অত্যাচারে মানুষ ছিল অতিষ্ট। শেখ হাসিনার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ ৫ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিলে দেশব্যাপী তোলপাড় উঠেছিল। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেই হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি হান্নান কোটালিপাড়ায় বোমা পেতেছিল। তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। বিচারে সাজাও হয়েছিল মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাকে ধরতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই মুফতি হান্নানকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনার মুখে সন্ত্রাস-লুটেরা কথাটি মানায় না বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। বরং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে আবারো জয়নাল হাজারী, আবু তাহের, শামীম ওসমানসহ চিহ্নিত গডফাদাররা ফিরে আসবে কিনা। সচেতন মানুষ মনে করছেন, ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনটি হবে গডফাদাররা ফিরে আসবে কিনা, গণভবন ১ টাকায় লিখে নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে মানুষের সিদ্ধান্ত।

Comments

comments