চট্টগ্রামে পুলিশকে গুলির ঘটনায় ২ এসএসসি পরীক্ষার্থী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে তল্লাশি চৌকিতে পুলিশকে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে মুরাদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আবদুল ওয়ারিশ জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার প্রত্যয় কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার বাসা সুগন্ধা এলাকায়।

গ্রেপ্তার অন্যজনের নাম রাকিব। তিনি নাসিরাবাদ বয়েজ হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার বাসা নাসিরাবাদ হাউজিংয়ে।

শুক্রবার বিকালের ওই ঘটনার পর এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হল। মো. হাকিম নামে এক তরুণকে ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

হামলার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওয়ারিশ জানান।

বিকাল ৪টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেইট এলাকায় ব্যস্ততম সড়কের পাশেই পুলিশের উপর গুলি চালায় একটি মোটর সাইকেলের আরোহীরা।

পুলিশ তখন জানিয়েছিল বলছেন, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী এই কিশোর-তরুণরা ‘ছিনতাইয়ে জড়িত’, তাদের কাছে পিস্তল থাকায় ধরা পড়ার ভয়ে চেকপোস্টে তল্লাশির আগেই তারা গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ পাঁচলাইশ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল মালেক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ মোটর সাইকেল দুটি আটক করলেও এখনও কোনো অস্ত্র পায়নি।

এর আগে চট্টগ্রামের ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক আহত হয়েছিলেন। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পাঁচটায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেককে (৩৮) গুলি করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই পুলিশ কর্মকর্তার হাঁটুর দুই ইঞ্চি উপরে এক রাউন্ড গুলি লেগেছে। পুলিশের ধারণা এটি পিস্তলের গুলি।

গুলিবিদ্ধ এসআই আবদুল মালেক (৩৮) নগরীর পাঁচলাইশ থানায় কর্মরত।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক শীলব্রত জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ সেখানে তল্লাশি চৌকি বসায়। এসময় একটি মোটরসাইকেলকে দাঁড়ানোর জন্য সংকেত দিলে আরোহীদের একজন গুলি করে পালিয়ে যায়। পায়ে গুলিবিদ্ধ এসআইকে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দুই নম্বর গেট মোড় আর ষোলশহর রেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশি করছিল পুলিশ। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে এসআই আবদুল মালেকের হাঁটুর ওপরে গুলি লাগে বলে জানান তিনি।

জহিরুল জানান, আহত পুলিশের এক্স-রে করা হয়েছ। তাকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আবদুল ওয়ারীশ বলেন, সাদাপোশাকে অস্ত্র ও মাদক অভিযানে গিয়েছিলেন এএসআই আবদুল মালেকসহ চার পুলিশ সদস্য। তাঁদের থেকে কিছুটা দূরে ছিল পোশাকধারী পুলিশের একটি দল। শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে চার দুর্বৃত্ত ২ নম্বর গেট থেকে মুরাদপুরের দিকে যাওয়ার সময় আবদুল মালেক তাদের থামার সংকেত দেন। ওই সময় পেছনের মোটরসাইকেলে থাকা এক দুর্বৃত্ত পিস্তল দিয়ে মালেকের ডান পায়ে গুলি করেন।

মো. আবদুল ওয়ারীশ আরও বলেন, পালানোর সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা আবদুল হাকিম নামের এক তরুণকে আটকে ফেলেন। আরেকজনকে প্রথমে ধরা হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সমর্থ হন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে দুটি গুলি ছোড়ে পুলিশ। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা মোট তিনটি গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনায় ব্যবহার করা পিস্তলটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, আহত মালেকের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। পুলিশ বলছে, গুলি চালানো দুর্বৃত্তরা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আবদুল ওয়ারীশ বলেন, তল্লাশির জন্য পুলিশ থামতে বলায় দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নগরের বিভিন্ন মোড়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নগরের ১৬টি থানায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Comments

comments